বাইয়াত সম্পর্কিত আলোচনা এবং কুরআন- হাদিসে পীর মুরিদীর প্রমাণ বা পীরের কাছে মুরিদ হওয়া কতটুকু শরীয়ত সম্মত??-১ম পর্ব [1-3]
⏺এ বিষয়ে আলোচনা করার আগে প্রথমে কিছু বিষয় জেনে নেওয়া যাক:
★পীর।
★মুরিদ।
★বায়আত।
★বায়আতে সুলুক।
প্রারম্ভিক ধারনা অর্জন
★পীর শব্দটি ফার্সি।আরবীতে বলা হয় মুর্শীদ।এর অর্থ হল পথপ্রদর্শক,শায়খ, বৃদ্ধ,পুরাতন,খলিফা,মোর্শেদ বা মুর্শিদ।
★যে বা যিনি বাইয়াত বা মুরিদ করান, তাকে বলা হয় পীর বা খলিফা বা শায়েখ বা মোর্শেদ বা মুর্শিদ।আবার,যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ তথা আল্লাহ তা’আলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুর্শীদ বা পথপ্রদর্শক।যাকে ফার্সীতে বলে পীর।
*তবে যে ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান মানে না,নামায পড়ে না,পর্দা করে না,সতর ঢেকে রাখে না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন বিধান পালন করে না,সে ব্যক্তি কিছুতেই পীর তথা মুর্শীদ হতে পারে না।কারণ তার নিজের মাঝেই যখন শরীয়ত নেই,সে কিভাবে অন্যকে শরীয়তের উপর আমল করা প্রশিক্ষণ দিবে? সে নিজে তো প্রশিক্ষিত নয়।
✊আবার অনেকে বলেন পীর শব্দটি কোরআনে নাই।পবিত্র কোরআন হল আরবি ভাষার।কোরআনে ফারসি শব্দ আসবে কেন!! যেমন: কোরআনে রয়েছে “সালাত” কিন্তু “নামায” শব্দটি নয়।
মুরিদ শব্দটি আরবি।মুরিদ শব্দটি বাবে ( ﺍﻓﻌﺎﻝ ) হতে (اسم ﻓﺎﻋل ) এর রুপান্তর।আরবি গ্রামার অনুযায়ী বাবে ইফআল হতে ইসমে ফায়েল’-এর রুপান্তর মুরিআসে।
★শাব্দিক অর্থ: ইচ্ছা পোষনকারী,দৃঢ় প্রত্যয়ী, সংকল্পকারী! আর যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তা’আলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার ইচ্ছা পোষণ করে কোন বুযুর্গ ব্যক্তির হাত ধরে শপথ করে সে ব্যক্তির নাম হল “মুরীদ”।
অর্থাৎ কোরআন সুন্নাহের আলোকে নিজের ইসলাহ বা আত্মশুদ্ধির জন্য সৎপথের দিশারী একজন শায়খ, কামেল বুজুর্গ ও আল্লাহর ওলির হাতে নিজেকে সেচ্ছায় অর্পণ করার সংকল্প-ইচ্ছা করে যে ব্যাক্তি সে হল মুরিদ।
এ ব্যাখ্যা থেকে একথা স্পষ্ট হল যে,পীর হবেন তিনি,যিনি শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন কিভাবে করতে হবে তার প্রশিক্ষণদাতা।আর যিনি সে প্রশিক্ষণ নিতে চান বা নেন,সে শিক্ষার্থীর নাম হল “মুরীদ”।
বাইয়াতের শাব্দিক বিশ্লেষণ
বায়আত শব্দটি ﺑﺎﻋﻴﺒﻴﻌﺒﻴﻌﺎ এর- মাসদার। ( ﺑﻴﻌﺔ – এর শেষে আরবীতে গোল ﺓ আর উর্দুতে লম্বা ﺕ লাগানো হয়।) বায়আত ( ﺑﻴﻌﺖ ) অর্থ: বিক্রি করা,বেচা।
★“বাইয়াত” শব্দের উৎপত্তি হয়েছে, “বাইয়ুন” শব্দ থেকে।“বাইয়ুন” শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে “ক্রয়-বিক্রয়”।
ইসলামী পরিভাষায়: নিজেকে আগ্রহ সহকারে সেচ্ছায় আল্লাহর হাতে জান্নাতের বিনিময়ে বিক্রি করা।
**এখানে এই “ক্রয়-বিক্রয়” মানে হচ্ছে আমার আমিত্বকে আল্লাহর রাহে (ওয়াস্তে) রাসূলের নিকট গিয়ে কোরবান করে দিলাম,বিলীন করে দিলাম,বিক্রি করে দিলাম।
**আমার আমিত্ব,আমার যত অহংকার আছে,অহমিকা আছে,আমি আমি যত ভাব আছে সমস্তকিছু আল্লাহর রাসুলের কাছে গিয়ে আল্লাহর রাহে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করে দেয়া,কোরবান করে দেয়া,নিজেকে আল্লাহ্তে সম্পূর্ণ রূপে আল্লাহর কাছে সমর্পন করে দেয়াই হল বাইয়াত।অন্য ভাষায় মুরিদ মানে হল বাইয়াত হওয়া।
বায়আতে সুলুক: বায়আতে সুলুক হল নফল আমল করে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা অর্জন করার জন্য বায়াআত করা হয়।বিশেষ দ্রঃ আরবীতে পীরকে শায়খ ( ﺍﻟﺸﻴﺦ ) ও সালেক ( ﺍﻟﺴﺎﻟﻚ ) বলা হয়। এই পদ্ধতিকে (পীরের হাতে নিজেকে অর্পন করা তথা বায়আত হওয়া নিজের ইসলাহ বা আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে ) বায়আতে সুলুক বলা হয়।
পৃথিবীতে ‘বায়আতে সুলুক সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের মতবাদ পাওয়া যায়।গায়রে মুকাল্লিদ,সালাফি,নাজদী- ওহাবী ও মওদূদীদের নিকট “বায়আতে সুলুক ভিত্তিহীন।তারা বলেন তার কোনো প্রমাণ্যতা ও অস্তিত্ব ইসলামে নেই।(নাউজুবিল্লাহ!)
✊অপরদিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর অনুসারী যারা তারা বলেনঃ “বায়আতে সুলুক” কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।পরকালীন নাজাত বিশুদ্ধ ঈমান এবং নেক আমলের জন্য।
★১. মহান আল্লাহ পাক বলেন:
﴿ ۞إِنَّ ٱللَّهَ ٱشۡتَرَىٰ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ أَنفُسَهُمۡ وَأَمۡوَٰلَهُم بِأَنَّ لَهُمُ ٱلۡجَنَّةَۚ ُ ١١١ ﴾ [التوبة: ١١١]
“আল্লাহ তা‘আলা মু‘মিনদের জান-মাল ক্রয় করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে।”
[সুরা তাওবাহ,আয়াত নং ১১১]
★সুরা তাওবার ১১১ নং আয়াতে আল্লাহ পাক ঘোষনা করেছেন যে, মুমিনের জান-মাল বেহেস্তের বিনিময়ে খরিদ করে নিয়েছেন।আর মালের মালিক যদি নিজ ইচ্ছায় মাল বিক্রয় না করে তবে তার মাল কেহ ক্রয় করতে পারে না। অর্থাৎ যে সকল মুমিন নিজ ইচ্ছায় জান-মাল বিক্রয় করতে ইচ্ছুক আল্লাহ তাদের কাছ থেকেই জান-মাল ক্রয় করতে ইচ্ছুক। আর যারাই জান-মাল বিক্রয় করবে তারাই সত্যিকারের মুমিন।
*যেহেতু বেহেশত দুনিয়ার জীবনে পাওয়া সম্ভব নয় তাই বেহেশতের বিনিময়ে ক্রয় করা জান ও মাল আল্লাহ সাথে সাথে নিয়েও নেন না।উপমা স্বরূপ বলা যায় আপনি হাট বা বাজার হতে মাল ক্রয় করলেন এই শর্তে যে, মাল বাড়ী পর্যন্ত পৌঁছে দিলেই মালের মালিক বিনিময় মূল্য বুঝে পাবে।
*তদ্রুপ মুমিন যখন তার জান-মাল আল্লাহর নিকট বিক্রয় করার শপথ দেয় তখন আল্লাহ মুমিনের জান-মাল এই শর্তে ক্রয় করেন যে, তার বাকী জীবন আল্লাহর মর্জি মতো পথে পরিচালিত করবে। আর যে সকল মুমিন আল্লাহর মর্জি মত জীবন পরিচালনা করতে পারে তারাই মৃত্যুর পর বেহেশত পেতে পারে অন্যথায় নয়।
★২.মহান আল্লাহ পাক বলেন
ان الذين يبايعو نک انما يبا يعون الله يد الله فوق ايديهم فمن نکث فانما ينکث علي نفسه و من اوفي بما عاهد عليه الله فسيوء تيه اجرا عظيما
অর্থ: নিশ্চয়ই (হে হাবিব) যারা আঁপনার পবিত্র হাত মোবারকে বা’য়াত হয়েছে (এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত হতে থাকবে),তারা তো স্বয়ং মহান আল্লাহর নিকটেই বা’য়াত গ্রহন করছে।তাদের হাত সমূহের উপরে মহান আল্লাহর কুদরতের হাত তথা দয়া ও হেফাজত বিদ্ধমান রয়েছে এবং থাকবে।
✊সুতরাং যে ব্যক্তি এ বা’য়াতে রাছুল ﷺ এঁর শর্ত ভঙ্গ করবে,সে নিজেরই ক্ষতিসাধন করবে।আর যে ব্যক্তি বা’য়াতের শর্ত সমূহ পূর্ণ করেছে বা করবে,যা সে বা’য়াতে রাছুলের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সাথে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছে,তাহলে সে অতি তাড়াতাড়ী আল্লাহর পক্ষ হতে মহা পুরুস্কারে পুরুস্কৃত হবেন।
[সুরা ফাতাহ,আয়াত নং ১০]
এই আয়াতেও স্পষ্টভাবে বায়আতের কথা উল্লেখ রয়েছে।আরো অনেক আয়াত রয়েছে যে সকল আয়াতে “বায়আতে সুলুক” আমাদের ভাষায় পীর- মুরিদী উদ্দ্যেশ্য।অর্থাৎ নিজের ইসলাহ বা আত্মশুদ্ধির জন্য আল্লাহ ওয়ালা- বুজুর্গদের কাছে বায়আত হওয়া উদ্দ্যেশ্য।
★৩. মহান আল্লাহ পাক আরও বলেন-“হে রাসূল! যেসব লোক আঁপনার নিকট বাইয়াত হচ্ছিল,তারা আসলে আল্লাহর নিকটই বাইয়াত হচ্ছিল।তাদের হাতের উপর আল্লাহর কুদরতের হাত ছিল।হে রাসূল! আল্লাহ মুমিনদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নীচে আঁপনার নিকট বাইয়াত হচ্ছিল।
[সূরা ফাতহ, আয়াত নং ১৮]
★৪.মহান আল্লাহ পাক আরও বলেন- “হে নবী! মু’মিন মহিলারা যখন আঁপনার কাছে এই শর্তে মুরিদ হতে চায়,তারা আল্লাহ পাকের সাথে কাউকে শরীক করবে না,চুরি করবে না,যিনা করবে না, সন্তান হত্যা করবে না,জারজ সন্তানকে স্বামীর সন্তান বলে মিথ্যা দাবি করবে না, নেক কাজে আপনার বিরোধিতা করবে না।এসব অঙ্গীকার পালন করার শর্তে তাদেরকে মুরিদ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ পাক অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু”।
[সূরা মুমতাহেনা,আয়াত নং ১২]
এই আয়াতে বায়আতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।এখানে বায়আত দ্বারা “বায়আতে সুলুক “(যাকে আমাদের ভাষায় পীর-মুরিদী বলে থাকি।
★৫. অপর আয়াতে আল্লাহ বাইয়াত বা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হওয়ার পর যারা তা রক্ষা করবে তাদের সম্পর্কে বলেন :
فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالآخِرَةِ وَمَن يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللّهِ فَيُقْتَلْ أَو يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
যে ব্যক্তি তার ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) পূর্ণ করবে এবং তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করবে,সে আল্লাহ পাকের প্রিয়জন হবে। আর নিশ্চিতভাবে আল্লাহ পাক মুত্তাকীদের ভালবাসেন।
[সূরা আলে ইমরান,আয়াত নং ৭৬]
মোটকথা: রাসূলের নিকট বাইয়াত হওয়া যেকথা, আল্লাহর নিকট বাইয়াত হওয়া সেকথা।কেননা,রাসূলের অনুসরণই আল্লাহ পাকের অনুসরণ,রাসূলের আদেশ- নিষেধ মানাই হল আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানা।রাসূলকে ভালোবাসাই আল্লাহকে ভালোবাসা, রাসূলের আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য।
******দলিল******
*(ক.) “আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে,তিঁনি তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত হয়,তারা সেখানে চিরকাল থাকবে,এ হলো মহাসাফল্য”
[সূরা নিসা,আয়াত নং ১৩]
*(খ.) মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-“যে রাসূলের আনুগত্য করল,সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল।
[সূরা নিসা,আয়াত নং ৮০]
*(গ.)“আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রাসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়।”
[সুরা আলে-ইমরান,আয়াত নং ১৩২]
*(ঘ.) “তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে এবং সৎকর্ম করবে,আঁমি তাকে দুবার প্রতিদান দেব এবং তার জন্য আমি সম্মানজনক রিযিক প্রস্তুতকরে রেখেছি।”
[সুরা-আহযাব,আয়াত নং ৩১]
*(ঙ.) “তোমরা নামায কায়েম কর,যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর।”
[সুরা-আহযাব,আয়াত নং ৩৩]
*(চ.) “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে এ অধিকার নেই যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে।আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়’
[সূরা আহযাব,আয়াত নং ৩৬]
*(ছ.) আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন,”রাসুল তোমাদের যা আদেশ করেছেন তোমরা তা পালন করো এবং যা নিষেধ করেছেন তোমরা তা বর্জন করো।”
[সূরা আল-হাশর,আয়াত নং ৭]
*(জ.) “হে রাসূল!আঁমি আঁপনার (মর্যাদার) জন্য আঁপনার আলোচনাকে বা স্মরনকে বা জিকিরকে বা খ্যাতিকে বা সুনামকে বা মর্যাদাকে বা শান শওকতকে বা শানও মানকে সমুচ্চ/ সমুন্নত/আ’লা মাকাম/উচ্চ মর্যাদা দান করেছি।
অর্থাৎ, যেখানে আল্লাহর নাম আসে সেখানে তাঁর (নবীর) নামও আসে।যেমন, আযান,নামায এবং আরো অন্যান্য বহু জায়গায়।(এই হিসাবে সারা বিশ্বে প্রতি মুহূর্তেই লক্ষবার তাঁর নাম উচ্চারিত হয়ে থাকে।) পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে নবী ﷺ এঁর নাম এবং গুণ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা হয়েছে।ফিরিশতাদের মাঝেও তাঁর সুনাম উল্লেখ করা হয়।নবী ﷺ এঁর আনুগত্যকেও মহান আল্লাহ নিজের আনুগত্যরূপে শামিল করেছেন এবং নিজের আদেশ পালন করার সাথে সাথে তাঁর আদেশও পালন করতে মানব সম্প্রদায়কে নির্দেশ দিয়েছেন।
[সূরা আল ইনশিরাহ,আয়াত নং ৪]
“এবং আঁমরা আঁপনার (রাসুলে পাক ﷺ) জিকিরকে সমুচ্চ করে দিয়েছি… হযরত আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) থেকে ঈমাম বুখারী বর্ণনা করেন, রাসুলে পাক (ﷺ), হযরত জিব্রাইল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন,বলুন উপরুক্ত আয়াতের অর্থ কি?
হযরত জিব্রাইল (আঃ) বলেছিলেন,এর অর্থ,আল্লাহ পাক বলেন,যখন আঁমার নাম স্মরণ করা হবে, তখন স্মরণ করা হবে আঁপনার নামও।
[তাফসীরে মাজহারী: ১২ তম খন্ড]
⏬
হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে
عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه أنَّ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ: «كُلُّ أُمَّتِي يَدخُلُونَ الجَنَّةَ إلاَّ مَنْ أبَى».قيلَ : وَمَنْ يَأبَى يَا رَسُول الله ؟ قَالَ: «مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أبَى». رواه البخاري
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘আঁমার উম্মতের সবাই জান্নাতে যাবে; কিন্তু সে নয় যে অস্বীকার করবে।’’ জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! (জান্নাতে যেতে আবার) কে অস্বীকার করবে?’ তিঁনি বললেন,‘‘যে আঁমার অনুসরণ করবে,সে জান্নাতে যাবে এবং যে আঁমার অবাধ্যতা করবে,সেই জান্নাতে যেতে অস্বীকার করবে।
দলিল*
*১. রিয়াযুস স্বা-লিহীন, অধ্যায়ঃ ১/হাঃনং ১৬২
*২. সহীহুল বুখারী ৭২৮০
*৩. মুসলিম ১৮৩৫
*৪. নাসায়ী ৪১৯৩,৫৫১০
*৫. ইবনু মাজাহ ৩
*৬. আহমাদ ৫৩১১
*৭. আধুনিক প্রকাশনী-৬৭৭১
*৮. ইসলামিক ফাউন্ডেশন-৬৭৮৩
[হাদিসের মানঃ সহিহ/বিশুদ্ধ]
⏬
হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَال: جَاءَتْ مَلَائِكَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَهُوَ نَائِمٌ فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَةٌ وَالْقَلْبَ يَقْظَانُ فَقَالُوا إِنَّ لِصَاحِبِكُمْ هَذَا مَثَلًا فَاضْرِبُوا لَهُ مَثَلًا فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ নপوَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَةٌ وَالْقَلْبَ يَقْظَانُ فَقَالُوا مَثَلُهُ كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى دَارًا وَجَعَلَ فِيهَا مَأْدُبَةً وَبَعَثَ دَاعِيًا فَمَنْ أَجَابَ الدَّاعِيَ دَخَلَ الدَّارَ وَأَكَلَ مِنْ الْمَأْدُبَةِ وَمَنْ لَمْ يُجِبْ الدَّاعِيَ لَمْ يَدْخُلْ الدَّارَ وَلَمْ يَأْكُلْ مِنْ الْمَأْدُبَةِ فَقَالُوا أَوِّلُوهَا لَهُ يَفْقَهْهَا فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَةٌ وَالْقَلْبَ يَقْظَانُ فَقَالُوا فَالدَّارُ الْجَنَّةُ وَالدَّاعِي مُحَمَّدٌ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَمَنْ أَطَاعَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ وَمَنْ عَصَى مُحَمَّدًا صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَدْ عَصَى اللهَ وَمُحَمَّدٌ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَرْقٌ بَيْنَ النَّاسِ
হজরত জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত।একদিন একদল ফিরিশতা নবীজি ﷺ এঁর নিকট এসে উপস্থিত হলেন।নবীজি ﷺ তখন ঘুমাচ্ছিলেন।ফিরিশতাগণ একে অপরকে বলতে লাগলেন,‘তোমাদের এই বন্ধুর একটি উপমা আছে,অতএব তোমরা সেটি বর্ণনা কর।’তখন তাঁদের কেউ বললেন,‘তিঁনি তো ঘুমিয়ে আছেন।’ তাঁদের কেউ বললেন,‘তাঁর চোখে ঘুম থাকলেও তাঁর অন্তর জাগ্রত।’ তখন তাঁরা বললেন,‘তাঁর উপমা হল; এক ব্যক্তি একটি গৃহ নির্মাণ করে খাবারের দস্তরখানা প্রস্তুত করে লোকদেরকে দাওয়াত দিয়ে আনার জন্য একজন আহবায়ককে প্রেরণ করল।অতঃপর যে ঐ আহবায়কের আহবানে সাড়া দিল,সে ঐ গৃহে প্রবেশ করে সেখানে রাখা খাবার খেতে পেল।আর যে আহবায়কের আহবানে সাড়া দিল না,সে ঐ গৃহে প্রবেশ করে সেখানে রাখা খাবার খেতে পেল না।’অতঃপর তাঁরা আপোসে বললেন, ‘তোমরা এই উপমার তাৎপর্য বলে দাও, যাতে তিঁনি বুঝতে পারেন।’এবারও তাঁদের কেউ বললেন,‘তিঁনি তো ঘুমিয়ে আছেন।’ তাঁদের কেউ বললেন,‘তাঁর চোখে ঘুম থাকলেও তাঁর অন্তর জাগ্রত।’তখন তাঁরা বললেন,‘ঐ গৃহ হল জান্নাত।ঐ আহবায়ক হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)।সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (ﷺ) এঁর আনুগত্য করবে,সে আসলে আল্লাহর আনুগত্য করবে।পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (ﷺ) এঁর নাফরমানি করবে,সে আসলে আল্লাহরই নাফরমানি করবে।আর মুহাম্মদ ﷺ হলেন মানুষের (মুমিন ও কাফেরের) মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণকারী (মানদন্ড)।
[বুখারী: ৭২৮১, মিশকাত: ১৪৪]
✊সুতরাং একথা স্পষ্টভাবে প্রমানীত: রাসূলের নিকট বাইয়াত হওয়া যেকথা, আল্লাহর নিকট বাইয়াত হওয়া সেকথা।কেননা,রাসূলের অনুসরণই আল্লাহ পাকের অনুসরণ,রাসূলের আদেশ-নিষেধ মানাই হল আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানা।রাসূলকে ভালোবাসাই আল্লাহকে ভালোবাসা,রাসূলের আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য।
[অনুরোধ: ঐ সমস্ত ভন্ড পীর থেকে দূরে থাকুন; যাদের কারনে আজকে সত্যিকার পীর- মাশায়েখগনের নামে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে,অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।এজন্য হক্কানী পীর-মাশায়েখদের বিরুদ্ধে কথা না বলে,যারা বাতিল তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।]
বাইয়াত সম্পর্কিত আলোচনা এবং কুরআন-হাদিসে পীর মুরিদীর প্রমাণ বা পীরের কাছে মুরিদ হওয়া কতটুকু শরীয়ত সম্মত??-২য় পর্ব
★১ম পর্বে আলোচনা করেছিলাম; রাসূলের নিকট বাইয়াত হওয়া যেকথা, আল্লাহর নিকট বাইয়াত হওয়া সেকথা।আবার অনেকে হয়তো বলবেন রাসূল ﷺ তো দুনিয়ার হায়াতে জিন্দেগী থেকে বাহ্যিকভাবে পর্দা নিয়েছেন।এখন তা কি করে সম্ভব? আজকে সে বিষয়ে ইন শা আল্লাহ আলোচনা করবো:
[বি:দ্র: দয়াল নবিজীর জীবন ও ওফাতের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই; যেহেতু আমার আলোচনার বিষয় পীর-মুরিদী তাই এব্যাপারে আলোচনা করতেছি না।ইন শা আল্লাহ পরে করবো।]
★৬. হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَرَكْتُ فيكُمْ شَيْئَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُما كِتابَ الله وسُنَّتي وَلَنْ يَتَفَرَّقا حَتَّى يَرِدا عَلَيَّ الحَوْضَ
হযরত আবূ হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত।রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,“আঁমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা অবলম্বন করলে তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না।তা হল আল্লাহর কিতাব এবং আঁমার সুন্নাহ। ‘হওয’(কাওসারে) আঁমার নিকট অবতরণ না করা পর্যন্ত তা বিচ্ছিন্ন হবে না।”
[হাকেম ৩১৯।হাদিসের মান:সহিহ হাদিস]
⏬
অপর হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে
عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنَ سَارِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لَا يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ
ইরবায বিন সারিয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত।তিঁনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট শুনেছেন, তিঁনি বলেছেন যে,“অবশ্যই তোমাদেরকে উজ্জল (স্পষ্ট দ্বীন ও হুজ্জতের) উপর ছেড়ে যাচ্ছি; যার রাত্রিও দিনের মতই। আঁমার পর ধ্বংসোন্মুখ ছাড়া অন্য কেউ তা হতে ভিন্নপথ অবলম্বন করবে না।”
[ইবনে আবী আসেম, আহমাদ ১৭১৪২, ইবনে মাজাহ, হাকেম, সহীহ তারগীব ৫৬।হাদিসের মান:সহিহ হাদিস]
⏬
হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কিতাবের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেন এবং আকৃষ্ট করেন। তারপর তিঁনি বলেন-
«وَأَهْلُ بَيْتي أذَكِّركُمُ الله في أهل بيتي أذكركم الله في أهل بيتي »
“এবং আঁমার আহলে বাইত।আঁমার পরিবার পরিজন সম্পর্কে আঁমি তোমাদের আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই,আঁমার পরিবার পরিজন সম্পর্কে আঁমি তোমাদের আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই”।
[মুসলিম, ফাযায়েলে সাহাবা অধ্যায়, হাদিস: ২৪০৮, আহমদ, হাদিস: ৩৬৭/৪, দারেমী ফাযায়েলে কুরআন অধ্যায়, হাদিস: ৩৩১৬]
এবার কোরআন,সুন্নাহ,আহলে বাইত, সাহাবায়ে কেরামগনের হতে সুসংগঠিত দলিল দিয়ে ইন শা আল্লাহ দেখাবো কেন বাইয়াত গ্রহন/পীর মুরিদী??
★৬. হযরত আবুল ইয়ামান আবু ইদ্রিস আয়িযুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পার্শ্বে সাহাবাদের উপস্থিতিতে (সাহাবাদেরকে লক্ষ করে) বলেনঃ আমার নিকট বায়আত গ্রহণ কর এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহ তা’য়ালার সাথে কিছু শরিক করবেনা,চুরি করবেনা, যিনা- ব্যাভিচার করবেনা,সন্তানদের হত্যা করবেনা, মিথ্যা অপবাদ দিবে না, সৎকাজে নাফরমানী করবেনা। তোমাদেরই মাঝে যে তা পূর্ণ করবে তার পুরুস্কার আল্লাহ তা’য়ালার নিকট রয়েছে। আর যে এর কোন একটিতে লিপ্ত হলে হয়ত তাকে দুনিয়াতেই শাস্তি দেওয়া হবে; তখন তা হবে তার কাফফারা সরূপ।কেহ এর কোনো একটিতে লিপ্ত হলে অতপর আল্লাহ তা’য়ালা তা গোপন রাখেন তাহলে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন।তিনি ইচ্ছা করলে ক্ষমা করে দিবেন,ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন।(সাহাবায়ে কেরাম বলেনঃ) অতপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর কাছে বায়আত হলাম।
[বুখারী শরীফ ১/৭ কিতাবুল ঈমান]
★এই হাদীসে সুস্পষ্টভাবে বায়আতে সুলুকের কথা স্পস্টত উল্লেখ আছে।কাজেই বায়আতে সুলুক বা পীর মুরিদী অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
★৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রদিআল্লাহু তায়া’লা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে হাত সরিয়ে নেয় সে ব্যক্তি ক্বিয়ামতের দিন দলীল বিহীন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে।আর যে ব্যক্তি বাইয়াত গ্রহণ করা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করল,সে ব্যক্তি জাহিলী যুগের ন্যায় মৃত্যুবরণ করল ।“
[মুসলিম: হাদীস নং- ৪৮৯৯,ত্বাবরানী শরীফ]
★৮. হযরত ইবনু উমার রাদিআল্লাহু তায়া’লা আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি যমানার ইমাম (হক্কানী শায়খ) ব্যতীত ইন্তেকাল করল সে জাহিলিয়াতের ইন্তেকাল করল।আর যে ব্যক্তি শায়খের আনুগত্য থেকে হাত সরিয়ে নিবে সে দলীল বিহীন অবস্থায় ক্বিয়ামতের দিন আগমন করবে ।“
[আবু দাউদ আত্তায়ালিসীঃ হাদীস নং- ১৯১৩, আবু নুয়াইম,জামিউল আহাদীস]
★৯. ”হুযায়ফা (রাঃ) ফিতনার সময় করণীয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে রাসুল (ﷺ) বলেন-তুমি মুসলমানদের জামাআত ও তাদের ইমামের অনুসরণ করবে।হুযায়ফা বলেনঃ আমি বললামঃ তখন যদি মুসলমানদের কোন জামাআ’ত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি ফিতনা সৃষ্টিকারী সকল ফির্কা পরিত্যাগ করবে।মৃত্যু পর্যন্ত তুমি এ অবস্থায় থাকবে ’’।
[সহীহ মুসলিম,অধ্যায়ঃ মুসলমানদের জামা’আতকে আঁকড়িয়ে ধরা ওয়াজিব।]
★১০.হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.) বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,যে ব্যক্তি কোন শায়েখের হাতে মুরিদ হবে।সে যেন এর অঙ্গীকারও পূর্ণ করতে থাকে এবং অন্তর দ্বারা পীরকে ভালবাসতে থাকে। আর যথা সম্ভব পীরের অনুকরণ ও অনুসরণ করতে থাকে।
[মুসলিম শরিফ: ২য় খন্ড,১২৬ পৃ.]
⏬
অপর হাদিসে আছে
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنْ دِيْنَارٍ (رض) اَنَّهُ سًمِعَ اللهِ بْنْ عُمَرَ (رض) يُقَوْلُ كُنَّا نَبَايِعْ رَسُوْلُ اللهِ (صلعم) عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ يَقًُوْلُ لََنَا فِيْهَا اِسْتَطَيْعْتُمْ ـ (مسلم)
আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:) কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা রাসূল ﷺ এঁর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করতাম, শ্রবণ ও আনুগত্যের উপর এবং তিনি আমাদের সামর্থ্য উক্ত আমল করার অনুমতি দিয়েছেন।(মুসলিম)
✊রাসূলের হাতে সকল সাহাবারা বাইয়াত গ্রহন করেছেন।রাসুলুল্লাহ ﷺ এঁর ওফাতের পর সমস্ত সাহাবীগন একে একে আবু বকর (রা:), ওমর (রা:), হযরত ওসমান (রা:), হযরত আলী (রা:) এই ভাবে সমস্ত সাহাবীগন তাদের যুগের নেতৃস্থানীয় যাকে উত্তম মনে করেছেন সবাই মিলে তার কাছে বাইয়াত হয়েছেন।
⏬
অত:পর আহলে বাইয়াতের ইমামগনের নিকট যেমন: ইমাম হাসান (রা:),ইমাম হোসাইন (রা:) এর নিকট মুসলমানগন বাইয়াত হয়েছেন।
ইয়াজিদ (লানতুল্লাহ) তার না-জায়েয ক্ষমতার উপর বাইয়াত হতে জোর জবরদস্তি করলে হক আর বাতিলকে প্রতিষ্টা করার জন্য তার বিরোদ্ধে কারবালায় যুদ্ধ করে ইমাম হোসাইন (রা:) শহীদ হন।
⏬
সেই সিলসিলা অনুযায়ী ৪ মাযহাবের ইমামগন হকের উপর মুসলমানদের বাইয়াত করেছেন।
⏬
তাদের পরবর্তীতেও এমন কোন হক পীর-বুজুর্গ বা জ্ঞানী পন্ডিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন না যারা কামেল পীর বা ইমামগনের নিকট বাইয়াত হন নি। এমনকি ওলীকুল সম্রাট গাউসুল আজম পীরানে পীর দস্তাগীর (রহ:) তিনিও কামেল পীরের নিকট বাইয়াত হয়েছিলেন।
⏬
বর্তমানেও সেই সিলসিলা জারি আছে কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে।কামেল ব্যাক্তির হাতে হাত রেখে ওয়াদা করা ও নিজেকে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল এর পথে সমর্পিত করা জায়েজ।কারন কামেল ব্যাক্তি অবশ্যই আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল ﷺ এর প্রিয়।আর এটাই হল এজাজতনামা।
আরেকটু ধারনা লাভ করি এজাজতনামা সম্পর্কে:
★এজাজত এর অর্থ অনুমতি সন্মতি ইত্যাদি।এজাজতনামা অর্থ অনুমতিপত্র।
⏩নবিজী ﷺ প্রথম সাহাবীদের বাইয়াত করেন যেটি আকাবার শফত নামে আমরা জানি।
★পরবতীতে এটি খোলফায়ে রাশেদীন,তাবেয়ী (ইমাম হাসান বসরী রহঃ) তাবে তাবেয়ীন
★ এই ভাবে ওলীগনের বংশগত হক তরিকা অর্থাৎ বাইয়াত করার যোগ্যতা রাখে তাদের মাধ্যমে এই সিলসিলা চলতে থাকে।
★যেমনটা (জোনায়েদ বাগদাদী রহ:) মাধ্যমে আব্দুল কাদের জিলানী (রহ:) আসতে থাকে,এটির একটি লিখিত Permission আছে,এটিকে” এজাজত নামা) বলে।
✊✊✊অনুসরন অংশ ✊✊✊
★১১. রাসূলে কারীম (ﷺ) একাধিক স্থানে নেককার ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
عن أبي موسى رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( مثل الجليس الصالح والسوء كحامل المسك ونافخ الكير فحامل المسك إما أن يحذيك وإما أن تبتاع منه وإما أن تجد منه ريحا طيبة ونافخ الكير إما أن يحرق ثيابك وإما أن تجد ريحا خبيثة )
অনুবাদ-হযরত আবু মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন-সৎসঙ্গ আর অসৎ সঙ্গের উদাহরণ হচ্ছে মেশক বহনকারী আর আগুনের পাত্রে ফুঁকদানকারীর মত।মেশক বহনকারী হয় তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা তুমি নিজে কিছু খরীদ করবে।আর যে ব্যক্তি আগুনের পাত্রে ফুঁক দেয় সে হয়তো তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দিবে,অথবা ধোঁয়ার গন্ধ ছাড়া তুমি আর কিছুই পাবে না।
দলিল*
*(ক.) সহীহ বুখারী,হা/নং-৫২১৪
*(খ.) সহীহ মুসলিম,হা/নং-৬৮৬০
*(গ.) মুসনাদুল বাজ্জার,হা/নং-৩১৯০
*(ঘ.) সুনানে আবু দাউদ,হা/নং-৪৮৩১
*(ঙ.) সহীহ ইবনে হিব্বান,হা/নং-৫৬১
*(চ.) মুসনাদে আবী ইয়ালা,হা/নং ৪২৯৫
*(ছ.) মুসনাদে আহমাদ,হা/নং-১৯৬৬০
*(জ.) মুসনাদুল হুমায়দী,হা/নং-৭৭০
*(ঝ.) মুসনাদুশ শামীন,হা/নং-২৬২২
*(ঞ.) মুসনাদুশ শিহাব,হা/নং-১৩৭৭
*(ট.) মুসনাদে তায়ালিসী,হা/নং-৫১৫
★১১. নেক বান্দাহ গনের আলোচনা কালে রহমত নাজিল হয়।রাসূলে পাক (ﷺ) বলেছেন, “নেক বান্দহ গণের আলোচনার সময় রহমত নাজিল হয়।”
- এহইয়াই উলুমুদ্দিন;
- মাকাছিদুল হাছানা: ২৯২ পৃ:
- মওজুয়াতুল কোবরা: ১৬১ পৃ:
*কাশফুল খফা: ২য় খন্ড,৬৫ পৃ:
★১২. আনাস ইবনে মালিক(রাঃ) বর্ণনা করেন,এক বেদুঈন লোক রাসুলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেকরলেনঃ কিয়ামত কখন হবে? নবী ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করলেন,তুমি কিয়ামতের জন্য কি সম্বল সংগ্রহ করেছো? সে বললো,আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের ভালবাসা।নবী ﷺ বললেন,তুমি যাকে ভালবাসো তার সাথেই তোমার হাশর হবে।
[মুসলিম: ৮ষ্ঠম খন্ড,হা/৬৫২১; বা:ই:সে]
⏬
আব্দুল্লাহ(রাঃ) বলেন,এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এসে বললো,হে আল্লাহর রাসুল! আপনি ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে কি অভিমত পোষন করেন,যে কোন গোত্রকে ভালবাসে অথচ তারা যা করে সে তা করে না।রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ যে যাকে ভালবাসে সে (পরকালে) তার সাথে থাকবে।
[মুসলিম: ৮ষ্ঠম খন্ড,হা/৬৫২৯; বা:ই:সে]
★১৩. আল্লাহ তাআলা কুরআনে দিয়েছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক।
[সূরা তাওবা: আয়াত নং ১১৯]
★১৪. আর নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা হলেন-
الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
অনুবাদ-যাদের উপর আল্লাহ তাআলা নিয়ামত দিয়েছেন,তারা হল নবীগণ,সিদ্দীকগণ,শহীদগণ,ও নেককার বান্দাগণ।
[সূরা নিসা,আয়াত নং ৬৯]
★১৫. মুমিন পুরুষ ও মুমিনা মেয়ে লোকের ভিতর হতে কতেক কতেকের বন্ধু
[সূরাঃ তাওবাহ, আয়াতঃ ৭১]
★১৬. আল্লাহর পথে লড়াই করা উচিত তাদের যারা দুনিয়ার জীবনকে বিক্রি করে দেয় আখিরাতের বিনিময়ে। আর যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয় অথবা গাজী হয় উভয়কে আমি সীমাহীন প্রতিবাদ দেবো।
[সূরা নিসা,আয়াত নং ৭৪]
★১৭. “হে প্রশান্ত আত্না!তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে এসো সন্তুষ্ট চিত্তে।আমার ওলীদের সংগে যুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।”
[সূরা ফজর,আয়াত নং ২৭-৩০]
★১৮. আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন, সে সৎপথ প্রাপ্ত হয় এবং তিনি(আল্লাহ) যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনো তাঁর জন্য কোন পথপ্রদর্শনকারী (অলি-মুরশিদ) পাবে না।
[সূরাঃ কাহাফ,আয়াতঃ ১৭]
★১৯.আল্লাহ বলেন,যারা গোমরাহী হবে, হে নবী! আপনি তাদের জন্য কোন মুর্শিদ খুঁজে পাবেন না।
[সূরা কাহাফ,আয়াত নং ১৯]
★২০.স্মরণ কর! সেই দিনকে যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাঁদের (ইমাম) নেতা সহ আহ্বান করব ।
[সূরা বনি ইসরাইল, আয়াতঃ ৭১ ]
★২১. পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক।এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।
[সূরা আল ইমরান,আয়াত নং ১০২]
★২২. হে ঈমানদারগন! তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং তার নৈকট্য লাভের উপায় অন্বেষণ কর ও তার রাস্তায় জিহাদ কর,যাতে তোমরা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে সফলকাম হতে পার।
[সূরা মায়িদাহ,আয়াত নং ৩৫]
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে রূহুল বয়ানের ২য় খণ্ডের ৩৮৮ পৃঃতে ” আল-ওয়াসিলা” শব্দের দ্বারা শরীয়তে উসিলা ধরার হুকুম প্রমাণ করা হয়েছে।
উসিলা ব্যতীত আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয় না।আর সত্যিকার পীরগন উসিলার অন্যতম অবলম্বন।বহু সহিহ হাদিসে আসছে যে সাহাবীগন রাসুলুল্লাহ ﷺ এঁর উসিলা দিতেন বা ওনারা একে অন্যের উসিলা দিতেন এখন আমরা নবী-রাসুল,সাহাবী,ইমাম,ওলী- আউলিয়ার উসিলা দেই।
★২৩. সূরা আল ফাতিহাতেও সুষ্পষ্টভাবে বুযুর্গদের সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ
অনুবাদ-আমাদের সরল সঠিক পথ [সীরাতে মুস্তাকিম] দেখাও।তোমার নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের পথ।
[সূরা ফাতিহা,আয়াত নং ৬,৭]
✊সূরায়ে ফাতিহায় মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর নিয়ামাতপ্রাপ্ত বান্দারা যে পথে চলেছেন সেটাকে সাব্যস্ত করেছেন সীরাতে মুস্তাকিম।এ আয়াত একথাই প্রমাণ করছে যে,নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দা হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ,শহীদগণ,আর নেককারগণ,আর তাদের পথই সরল সঠিক তথা সীরাতে মুস্তাকিম।
অর্থাৎ তাদের অনুসরণ করলেই সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলা হয়ে যাবে।যেহেতু আমরা নবী দেখিনি, দেখিনি সিদ্দীকগণকে,দেখিনি শহীদদের।তাই আমাদের সাধারণ মানুষদের কুরআন সুন্নাহ থেকে বের করে সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলার চেয়ে একজন পূর্ণ শরীয়তপন্থী হক্কানী বুযুর্গের অনুসরণ করার দ্বারা সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলাটা হবে সবচেয়ে সহজ।আর একজন শরীয়ত সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির সাহচর্য গ্রহণ করার নামই হল পীর মুরিদী।
[অনুরোধ: ঐ সমস্ত ভন্ড পীর থেকে দূরে থাকুন; যাদের কারনে আজকে সত্যিকার পীর-মাশায়েখগনের নামে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে,অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।এজন্য হক্কানী পীর-মাশায়েখদের বিরুদ্ধে কথা না বলে,যারা বাতিল তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।]
বাইয়াত সম্পর্কিত আলোচনা এবং কুরআন-হাদিসে পীর মুরিদীর প্রমাণ বা পীরের কাছে মুরিদ হওয়া কতটুকু শরীয়ত সম্মত??-৩য় পর্ব
★২৪. ইন শা আল্লাহ আজকে আলোচনা করবো একজন হক্কানী পীর (তবে ভন্ড পীর নয়) হতে পারেন যামানার অন্যতম ইমাম,আলেম, বুযূর্গ,ফরহেজগার,অধিক তাকওয়া সম্পূর্ন ব্যক্তি ও আল্লাহ ওয়ালা তথা ওলী।যাকে অনুসরণ করা যাবে বা অনুসরন করতে বলা হয়েছে।তবে কথা হল এখন প্রকৃত ইমাম বা হক্কানী আলেম কে তা কিভাবে বুঝবো? কাদের থেকে দ্বীন শিখব তা একটু জেনে নেই বুঝে নেই!এবার আসুন বিস্তারিত জানা যাক:
⏬
*১. এক ব্যক্তি এমন কোন বিদ্বানকে শিক্ষক হিসেবে ধরেছে যার কুরআন হাদিস জানা আছে ঠিকই কিন্তু ইলমে লাদ্দুনী নেই তাই সে যেভাবে বুঝে সেই ভাবেই ফতোয়া দেয়।নাকি
⏬
*২. অপর ব্যাক্তি যে এমন একজন কামেল ওলীর কাছে দ্বীন শিখতে গিয়ে বায়াত হয়েছে যার আছে খোদা প্রদত্ত ইলমে লাদ্দুনী আছে আর যে তার কাশফকে (অন্তর চক্ষু বা বাতেনী চক্ষু) জাগ্রত করেছে।
কে সর্বাপেক্ষা উত্তম হবে?
★সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীছ শরীফে ইরশাদ করেন, “প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য (দ্বীনের অপরিহার্য শরীয়তী) ইলম অর্জন করা ফরয।
[বায়হাক্বী,মিশকাত,মিরকাত,লুময়াত, তা’লীকুছ্ ছবীহ্,শরহুত্ ত্বীবী,মোযাহেরে হক্ব,আশয়াতুল লুময়াত]
হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে,সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,“ইলম দু’প্রকার-
*(ক.) ক্বল্বী ইলমে অর্থাৎ ইলমে তাছাউফ। আর এটাই মূলতঃ উপকারী ইলম।
*(খ.) যবানী ইলম অর্থাৎ ইল্মে ফিক্বাহ্,যা আল্লাহ্ পাকের পক্ষ হতে বান্দার জন্য দলীল।
[দারিমী,তারগীব ওয়াত তারহীব,তারীখ, আব্দুল বার,দাইলামী,বায়হাক্বী,মিশকাত, মিরকাত,শরহুত্ ত্বীবী,তা’লীকুছ্ ছবীহ্, আশয়াতুল লুময়াত,লুময়াত,মুযাহিরে হক্ব]
★২৫. আল্লাহ পাক পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ করেন,‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্’পাকের বান্দাদের মধ্য হতে শুধুমাত্র আলেমগণই আল্লাহ্’পাককে ভয় করে।’’
[সূরা ফাতির,আয়াত নং ২৮]
★এ আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে ইমামুল আইম্মা, শায়খুল মুহাদ্দেসীন হযরত আহমদ বিন হাম্বল (রহ:) বলেন,‘‘যার ভিতর যত বেশী খোদাভীতি রয়েছে তিনি ততবড় আলেম।’’
★এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় ‘‘তাফসীর খোলাছায়’’ উল্লেখ আছে যে,‘‘শুধুমাত্র কিতাবসমূহ পাঠকারীদেরকে বুঝানো হয়নি।বরং কোরআন শরীফে বর্ণিত আলেম তাঁরাই যারা মহান আল্লাহ’ পাক-এঁর জাত ও অসীম গৌরবময় ছিফাতসমূহে ঈমান ও মারেফতের নূরের আলোকে অবলোকন করেছেন।হুজুর ﷺ এঁর প্রিয়তম সাহাবীগণ (রাঃ) ও তাবেয়ীনগণ,তাবে তাবেয়ীনগণ এবং ওলি আল্লাহ্ গণ সর্বোচ্চ স্তরের উপকারী ইলমের অধিকারী ছিলেন।অর্থাৎ তাঁরাই কোরআন শরীফে বর্ণিত প্রকৃত আলেম ছিলেন।
★উল্লেখিত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় তাফসীরে ইবনে কাছীরে’’ বলা হয়েছে ‘‘হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন,যে ব্যক্তি অধিক হাদীস জানে সে ব্যক্তি আলেম নয়।বরং যার মধ্যে আল্লাহ্’র ভীতি অধিক সে ব্যক্তিই আলেম।’’
★আর আহমদ সবিন ছালেহ্ মিছরী (রহঃ) বলেন, অধিক রেওয়াত শিক্ষা করলেই আলেম হওয়া যায় না।মূলত: ইলম হচ্ছে নূর বা জ্যোতি স্বরূপ।আল্লাহ্’পাক তা মানুষের অন্তকরণে দান করেন।’’
‘‘তাফসীরে ইবনে কাছীরে’’ উল্লেখিত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় আরো উল্লেখ আছে যে, হযরত ইমাম সুফিয়ান ছাওরী (রহঃ) বলেন, ‘‘আলেমগণ তিনভাগে বিভক্ত।যথা:
*১.আলেম বিল্লাহ্ অর্থাৎ যারা শুধু আল্লাহ্’পাককেই জানেন।কিন্তু তাঁর হুকুম-আহকাম সম্পর্কে অজ্ঞ।
*২. আলেম বিআমরিল্লাহ্ অর্থাৎ যারা শুধু হুকুম-আহকাম সম্পর্কে জানেন।কিন্তু আল্লাহ্’পাক সম্পর্কে অজ্ঞ বা আল্লাহ্ ভীতি নেই।
*৩.আলেম বিল্লাহ্ ওয়া বিআমরিল্লাহ্ অর্থাৎ যারা আল্লাহ্’পাক ও তাঁর শরীয়তের হুকুম-আহকাম, ফারায়েজ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত এবং আল্লাহ্’পাককে ভয় করেন।(তাঁরাই হাক্বীকী বা প্রকৃত আলেম)
✊আর এজন্য একজন হক্কানী পীর অবশ্যই এসব বৈশিষ্টের অধিকারী।যেহেতু যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ তথা আল্লাহ তা’আলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুর্শীদ বা পথপ্রদর্শক।যাকে ফার্সীতে বলে পীর।
আর কেনইবা তার কাছে যেতে হবে বা শিক্ষা লাভ করতে হবে তার দলিল কি?
★★কিয়ামতের আগে মানুষ মুর্খতা বশত জ্ঞানহীন মানুষ এর কাছ থেকে ফতোয়া জিজ্ঞেস করবে যারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে।(আল-হাদিস)
★তাই এমন কারো কাছ থেকে ইসলামকে জানার জন্য শিখার জন্য আল্লাহর হুকুম বা ইংগীত যাদের কাছে ইলমে লাদ্দুনি তথা আল্লাহর পক্ষ থেকে খাটি জ্ঞান রয়েছে আর ওলী তাদেরকেই বলা হয় যারা আল্লাহর বন্ধু।যাদের নিকট ইলমে লাদ্দুনি রয়েছে।তবে তাদেরকে নয় যারা নাকি শরীয়ত বিরোধী মুর্খ।বর্তমানে কামেল ওলীর চাইতে উত্তম আর কে হতে পারে!!
★২৬. মা আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,‘আল্লাহ আমার প্রতি ওহী করেছেন,যে ব্যক্তি ইলম অর্জনে কোনো রাস্তা অবলম্বন করে,আমি তার জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেই।আর আমি যার দুই প্রিয়তমকে (চক্ষুদ্বয়) কেড়ে নেই,এর বিনিময়ে আমি তাকে জান্নাত দান করি।কল্যাণের ইলম আহরণে আধিক্য ইবাদতেও আধিক্যের হেতু।দীনের সেরা বিষয় হলো আল্লাহর ভয়।’
[বাইহাকী,শু‘আবুল ঈমান: ৫৩৬৭, সহীহ সনদে বর্ণিত]
★২৭. আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়।তবে তিনটি উৎস থেকে তা অব্যাহত থাকে: সাদাকায়ে জারিয়া,উপকারী ইলম অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দু‘আ কর।’[মুসলিম: ৪৩১০]
যেমন কাবশা আনমারী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেন, ‘তিন শ্রেণীর লোকদের ব্যাপারে আমি কসম করছি এবং তোমাদের কাছে একটি হাদীস বলছি,তোমরা তা সংরক্ষণ করো।’ তিনি বলেন, দান-সদকায় কারো সম্পদ কমে না,কোনো ব্যক্তির প্রতি অত্যাচার করা হলে সে যদি তাতে ধৈর্য ধরে তবে আল্লাহ তার সম্মান বৃদ্ধি করে দেন এবং কোনো বান্দা (মানুষের কাছে) প্রার্থনা বা চাওয়ার দরজা খুললে আল্লাহ তার জন্য অভাবের দরজা উন্মুক্ত করে দেন।’ (বর্ণনাকারী বলেন,এ কথা কিংবা) অনুরূপ বাক্য বলেছেন।আর আমি তোমাদেরকে একটি হাদীস বলব তোমরা তা স্মরণ রেখ।তিনি বলেন, ‘দুনিয়া চার প্রকার লোকের জন্য;
*(১.) সেই বান্দার জন্য যাকে আল্লাহ মাল ও জ্ঞান দান করেছেন।ফলে সে এতে তার প্রভুকে ভয় করছে এবং তার আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে আর তার ব্যাপারে আল্লাহর হক জানছে,এ হলো সর্বোত্তম মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
*(২.) সেই বান্দা যাকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন কিন্তু মাল দেন নি।সে হলো সঠিক নিয়তের লোক।সে বলে, যদি আমার টাকা-পয়সা থাকতো তাহলে অমুক ব্যাক্তির মত কাজ করতাম।সে তার নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব পাবে।এদের দুজনের নেকী হবে সমান।
*(৩.) আর সেই বান্দা যাকে আল্লাহ টাকা-পয়সা দিয়েছেন কিন্তু জ্ঞান দান করেন নি।সে না জেনেই তার টাকা-পয়সা খরচ করছে।এতে সে আল্লাহকে ভয় করে না,আত্মীয়তা রক্ষা করে না এবং এতে আল্লাহর হকও সে জানে না।সে হলো সবচেয়ে নিকৃষ্ট অবস্থানে।
*(৪) আর সেই বান্দা যাকে আল্লাহ মালও দেন নি জ্ঞানও দেন নি,সে বলে আমার টাকা পয়সা থাকলে অমুকের মতই (খারাপ কাজ) করতাম।সে তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে।এরা দুজনই গুনাহর দিক থেকে সমান।’
[তিরমিযী: ২৪৯৫]
⏬
যেমন: আনাস ইবন মালেক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘ইলমের অধিকারী ব্যক্তির জন্য সব কিছুই মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করে।এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত।’
[সহীহ মুসনাদ আবী ই‘আলা: ২/২৬০; সহীহ জামে‘ সগীর: ৩৭৫৩ কানযুল উম্মাল: ২৮৭৩৭]
★২৮. আবেদ ও আলেমের মর্যাদার ফারাক আসমান ও যমীনের মতো।কায়স ইবন কাছীর থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,মদীনা থেকে এক ব্যক্তি দামেশকে আবূ দারদা রাদিআল্লাহু আনহুর কাছে এলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে ভাই, কোন জিনিস এখানে তোমার আগমন ঘটিয়েছে?
তিনি বললেন: একটি হাদীস এখানে আমাকে এনেছে,যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন বলে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে।
তিনি জানতে চাইলেন: তুমি কি অন্য কোনো প্রয়োজনে আসো নি?! তিনি বললেন,না।
জানতে চাইলেন: তুমি কি বাণিজ্যের জন্যে আসো নি?! উত্তর দিলেন,জী না।তিনি জানালেন,আমি কেবল এ হাদীস শিখতেই আপনার কাছে এসেছি।
তিনি বললেন,আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,‘যে ব্যক্তি ইলম হাসিলের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে আল্লাহ তার জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।আর তালিবুল ইলমকে খুশি করতে ফেরেশতারা তাঁদের ডানা বিছিয়ে দেন। আলেমের জন্য আসমান ও যমীনের সবাই মাগফিরাত কামনা করতে থাকে। এমনকি পানির মাছগুলো পর্যন্ত।আর আবেদের ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব সকল তারকার ওপর চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের মতো। নিশ্চয় আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। তবে নবীগণ দিনার বা দিরহামের উত্তরাধিকারী বানান না।তাঁরা কেবল ইলমের ওয়ারিশ বানান।অতএব যে তা গ্রহণ করে সে পূর্ণ অংশই পায়।’
[তিরমিযী: ২৬৮২]
★২৯. আর প্রকৃতপক্ষে তাঁরা মানুষের চিকিৎসক।কেননা দেহের রোগের চেয়ে আত্মার ব্যাধিই বেশি।কারণ,মূর্খতা একটি রোগ আর এই রোগগুলোর ওষুধ হলো এই ইলম।আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: আলেম ও অন্ধ। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
যে ব্যক্তি জানে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে,তা সত্য, সে কি তার মত, যে অন্ধ? বুদ্ধিমানরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে।
[সূরা আর-রাদ,আয়াত নং ১৯]
★৩০. আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‘কেবল দুই ব্যক্তিকে হিংসা করার অনুমতি রয়েছে: ওই ব্যক্তিকে আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন।অতপর তাকে সে সম্পদ হকের পথে ব্যয় করতে ন্যস্ত করেছেন।আর ওই ব্যক্তি যাকে তিনি হিকমাহ বা ইলম দান করেছেন।ফলে সে তা দিয়ে বিচার করে এবং তার শিক্ষা দেয়।’ [বুখারী: ৭৩]
★৩১. মু‘আবিয়া ইবন সুফিয়ান রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান তিনি তাকে দীন বিষয়ে গভীর ইলম দান করেন।’
[বুখারী: ৭৩১২; মুসলিম: ২৪৩৯]
⏬
যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘নিশ্চয় অজ্ঞতার চিকিৎসা হলো জিজ্ঞাসা’।[আবূ দাঊদ : ৩৩৬]
★৩২. যে বিশুদ্ধ চিত্তে আমার অভিমুখী হয়,তার পথ অনুসরণ করবে।অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে,আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।
[সুরা লুকমান,আয়াত নং ১৫]
[এখানে কামেল পীরের কাছে বায়াত গ্রহন করার ইংগীত হয়েছে শরীয়ত বিরোধী কোন নামধারী পীর এর কাছে নয়]
★৩২. জিকির সম্বন্ধে তোমাদের জানা না থাকলে জিনি জানেন তাঁর নিকট হতে জেনে নাও।
[সূরাঃ আম্বিয়া,আয়াত নং ৭]
★৩৩. মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘সুতরাং জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস কর যদি তোমরা না জান’।
[সূরা আন-নাহল,আয়াত নং ৪৩]
★৩৪. আল্লাহ বলেন”যারা আমার জিকির থেকে অন্ধ ও গাফেল।আমি তাদের উপর একটি শয়তান নিযুক্ত করে দেই।সে সবসময় তাদের থাকে।
[সূরা জখরূপ,আয়াত নং ৩৬]
★৩৫. আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয় এর পূর্বে যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে,তাদের কাছে যখন এটা পাঠ করা হয় তখন তারা সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। আর তারা বলে, ‘পবিত্র মহান আমাদের রব ! আমাদের রবের ওয়াদা অবশ্যই কার্যকর হয়ে থাকে। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।
[সূরা বনী ইসরাঈল,আয়াত নং ১০৭-১০৯]
★৩৬. তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে।
[সূরাঃ আল-ইমরান,আয়াতঃ ৭১]
★৩৭. অনুস্মরণ কর তাঁদের যারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাহে না,এবং যারা সৎ পথ প্রাপ্ত।
[সূরা ইয়াসীন,আয়াত নং ২১]
★৩৮. “হে মুমিনগণ! তোমরা অনুস্মরণ কর,আল্লাহ্ পাক এঁর,তাঁর রাসুল পাক ﷺ এঁর এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর রয়েছে তাদের।”
[সুরা নিসা,আয়াত নং ৫৯]
(উলিল আমর এর মানে হল ন্যায় বিচারক/ধর্মীয় নেতা/ওলি- আউলিয়া/পীর-মুর্শিদ ইত্যাদি শব্দ ধরা যেতে পারে)।তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ঐ ব্যক্তি হবেন উলিল আমর যার মধ্যে অধিক তাকওয়া, রাসূলের মোহাব্বত,আহলে বাইয়াতের মোহাব্বত, সাহাবিগনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা সহ সকল হক্কানী আলেম-বূযূর্গগানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং দুনিয়ার প্রতি কম আসক্তি ইত্যাদি আছে কিনা?
⏬
লক্ষ্য করুন: সর্বোত্তম ব্যক্তি কে তাকে কিভাবে চেনা যাবে??
٨- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَكْرَمُ النَّاسِ ؟ قَالَ : أَتْقَاهُم
অনুবাদ: হযরত আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন-নবী করীম ﷺ কে জিজ্ঞাসা করা হলো,সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন,যে (আল্লাহ ভীরু) মুত্তাকি।
দলিল*
*(ক.) সহীহ বুখারী,অধ্যায়: আম্বিয়া, ৩/১২২৪ হা: ৩১৭৫;অধ্যায় মানাকিব ৩/১২৮৭ হা: ৩৩০১; সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ: ফাযায়েল, ৪/১৮৪৬ হা: ২৩৭৮।
*(খ.) মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ৬/৩৪৭ হা:৩১৯১৯
*(গ.) মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল ২/৪৩১ হা: ৯৫৬৪
