বিশ্ববিখ্যাত তাফসীরকারক ইমাম সাভী (রহঃ) সূরা নিসার ১১৩ নং আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, “মিরাজে আল্লাহ্র সঙ্গে নবীজীর নব্বই হাজার কালামের বর্ণনা পাওয়া যায়। তন্মধ্যে ত্রিশ হাজার কালাম হাদীস আকারে সবার জন্য, ত্রিশ হাজার কালাম খাছ্ লোকদের জন্য এবং অবশিষ্ট ত্রিশ হাজার কালাম শুধুমাত্র রাসূল (সাঃ) এ কাছে গোপন রাখার জন্য আল্লাহ্ তাআ’লা নির্দেশ দিয়েছিলেন।” (কাসাসুল আম্বিয়া- উর্দূ ৪৪২ পৃ. দিলী হতে প্রকাশিত)
এছাড়াও আলামা মোলা জিওন (রহঃ), সূরা নজমের তাফসীর করতে গিয়ে উলেখ করেন-
“বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহ তাআ’লা মিরাজের রজনীতে রাসূলে খোদা (সাঃ) এর সাথে ৯০ হাজার কালাম বা কথাবার্তা বলেছেন, গোপনীয় বিষয় সংবাদ দিয়েছেন, অনেক আহ্কাম দিয়েছেন এবং তার সাথে ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছিলেন।”(তাফসীরে আহ্মদিয়্যাহ-৩৩১ পৃষ্ঠা)
সাহাবীগণ যে এই ধরনের ইলম পেয়েছিলেন তার প্রমাণ হচ্ছে-
“হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তায়েফের যুদ্ধের দিন হুজুরে পাক (সাঃ), হযরত আলী (রাঃ)-কে অনেকক্ষণ পর্যন্ত চুপে-চুপে যেন কি কথা বলছেন। তখন লোকজন বলল, হুজুর পাক (সাঃ) যে তাঁর চাচাতো ভাইয়ের সাথে গোপন কথা বলেই চলেছেন। ইহা শুনে হুজুর পাক (সাঃ) বললেন, গোপন কথা আমি বলিনি বরং আল্লাহ পাকই তাঁর সাথে (আমার মাধ্যমে ) গোপন কথা বলেছেন।” (সুবহানআল্লাহ্) (ইমাম তিরমিযীঃ আস্-সুনান:৩৭২৬, ইমাম খতিব তিবরিযীঃ মেশকাত:৬০৯৭)
“হযরত আবু হুরাইরা (্রাদিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযুর পাক (সাঃ) হতে আমি দুই পাত্র ইল্ম হিফয্ (সংরক্ষণ) করেছি। এর থেকে এক পাত্রের ইল্ম তোমাদের মধ্যে বিতরণ করেছি, কিস্তু অপর পাত্রের ইল্ম যদি আমি তোমাদের নিকট প্রকাশ/প্রচার করি তাহলে আমার মাথা কাটা যাবে। (ইমাম বুখারীঃ আস্-সহীহ :১২০, ইমাম খতিব তিবরিযীঃ মেশকাত:২৭১)
শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলবী (রহঃ) নিজের রচিত হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ’লমআত’ -এ বর্ণনা করেছেন যে, “প্রথম ইল্ম হলো বিধি-বিধান ও চরিত্রের ইল্ম । আর দ্বিতীয় ইল্ম দ্বারা উদ্দেশ্য রহস্য ও সূক্ষ্মাতি-সূক্ষ্ম বিষয়ের ইল্ম , যা মা’রিফাতের জ্ঞানী (আরেফ) ছাড়া অন্যদের বোধগম্য হওয়ার নয়।”
হাদিসে কুদসিতে প্রিয় নবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ্ তায়া‘লা বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীর সাথে শত্রুতা করে,আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। আমার নৈকট্য অর্জনের জন্য বান্দা যত কাজ করে তার মধ্যে ফরজ হচ্ছে অন্যতম। এরপর বান্দা যখন নিয়মিত নফল ইবাদাতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভে পথে অগ্রসর হয়, তখন তাকে আমি ভালবাসতে থাকি। যখন আমি তাকে ভালবাসতে থাকি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দ্বারা সে শ্রবণ করে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখতে পায়। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে হাটে। সে যদি আমার কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে আমি অবশ্যই তাকে সেটা প্রদান করি। সে যদি আমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় প্রদান করি।” (সহিহ্ বুখারী- হাদিস নং ৬০৫৮)
এখানে উলেখ্য যে, ইলমে তাসাওউফের শিক্ষা ব্যতীত আল্লাহর অলী হওয়া অস¤ভব।
রাসূলুলাহ (সাঃ) বলেন, “তোমরা মু‘মিনদের (ওলীদের) অন্তদৃ“িকে ভয় কর, কেননা তারা আল্লাহর নূর দ্বারা দেখে থাকেন। ”(বি¯ারিত দেখুন- ’প্রচলিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ )
রাসূলুলাহ (সাঃ) বলেছেন।
وَلَقَدْ كَانَ فِيْهَا قَبْلَكُمْ مِنَ الْاُمَمِ مُحَدَّ ثُوْنَ فَاِنْ يَكُ فِـىْ اُمَّتِـىْ اَحَدٌ فَاِنَّهُ عَمَرُ
(ওয়ালাক্বদ কানা ফীমা ক্বাবলাকুম মিনাল উমামি মুহাদ্দাসুনা ফা-ইন ইয়াকু ফী উম্মাতি আহাদুন ফাইন্নাহু উমার।)
অর্থাৎ- “তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণের মধ্যে যেরূপ ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছিলেন, আমার উম্মাতের মধ্যে উমার ফারুক সেরূপ।”
‘মুহাদ্দাস’ শব্দের অর্থ হল, এমন ব্যক্তি যার অন্তরে আল্লাহর তরফ থেকে কোন জিনিসের ইলহাম হয়। (ইহ্ইয়াউ উলুুমিদ্দীন)
এখানে উলেখ্য যে, হযরত উমর (রা) তাঁর খিলাফতকালে মসজিদে নববীতে জুমু‘আর দিনে খুতবার সময় হঠাৎ বললেন:
يَا سَاِ يَةَ الْخَجْبَلِ اَلْجَبَلِ
“হে সারিয়া! পর্বতের দিকে (লক্ষ্য কর), পর্বতের দিকে (লক্ষ কর)।”
খুত্বা দেওয়ার সময় তিনি তাঁর অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে জানতে পারেন যে, শত্র“ সেনারা নাহওয়ান্দ নামক রণক্ষেত্রে মুসলিম বাহিনীর উপর অতর্কিত হামলা করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু মুসলিম বাহিনী সে ব্যাপারে বে-খবর ছিল। এ অবস্থায় তিনি তাদের সতর্ক করার জন্য এ সাবধানবাণী উচ্চারণ করেন। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এ নির্দেশ বাণীটি তখনই সারিয়ার কাছে পৌঁচেছিল এবং সে মোতাবেক রণ-কৌশল গ্রহণ করায় সমূহ ক্ষতি থেকে তাঁরা রক্ষা পেলেন। (ইহ্ইয়াউ উলুুমিদ্দীন)
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা) বর্ণনা করেন, আমি একদিন হযরত উসমান (রা) এর খেদমতে রওনা দিলাম। পথিমধ্যে জনৈকা মহিলাকে দেখে আমি তার দিকে তাকালাম এবং তার রূপ-সৌন্দর্য গভীরভাবে নিরীক্ষণ করলাম। এরপর হযরত উসমান (রা) এর খেদমতে রওনা দিলাম। এরপর হযরত উসমান (র) এর নিকটে হাজির হলাম। তিনি বলতে লাগলেন, “তোমাদের কেউ কেউ তোমার কাছে আগমন করে এমন অবস্থায় যে, তার চোখে-মুখে যিনার চিহ্ন থাকে। তোমার কি জানা নেই যে, কুদৃষ্টি করা হচ্ছে চোখের যিনা? তুমি তওবা কর। নয়তো তোমাকে শা¯ি দেব।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুলাহ (সা) এর পরেও ওহী আগমন করে কি? হযরত উসমান (রা) বললেন, “না, তবে অন্তর্দৃ“ি ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে জানা যায়।” (সুবহানালাহ) (ইহ্ইয়াউ উলুুমিদ্দীন)
আবু সাঈদ খিরাম বলেন, একবার আমি হেরেম শরীফে গেলাম। সেখানে খেরকা পরিহিত এক ফকীরকে দেখে মনে মনে ভাবলাম, এ ধরণের মানুষই সমাজের বোঝা হয়ে থাকে। ফকীর তৎক্ষণাৎ আমাকে কাছে ডেকে বললে,
اَللهُ يَفْلُمُ مَا فِىْ اَنْضُسِكُمْ فَاحْزُوْه
(“আল্লাহ তোমাদের মনে কথা জানেন। অতএব সাবধান হয়ে যাও।”) এতে আমি মনে মনে ই¯িগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করলাম। এরপর ফকীর সজোরে বললেন-
صُوَ الّصُوَ الّٰذِىْ يَقْبَلُ التَّوْ بَةَ عَدْ عِبَادِه
(“তিনি আল্লাহ্ বান্দার তওবা বাবুল করেন।“)
একথা বলেন ফকীর আমার চোখের আড়াল হয়ে গেল।
আরেকটি দলিল হচ্ছে, অদৃশ্য জগত ও ভবিষ্যৎ বিষয়াদি সম্পর্কে রাসূলে করীম (দঃ) এর সংবাদ প্রদান করা। কুরআন ও হাদিস দ্বারা এটা প্রমাণিত। এটা যখন নবীর জন্যে প্রমাণিত হল, তখন নবী নয়- এমন ব্যক্তির জন্যেও প্রমাণিত হতে পারে। কেননা, নবী তো হচ্ছেন, যিনি কাশফের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের স্বরূপ জেনে নেন এবং সংস্কার কাজে মশগুল থাকেন। সুতরাং এমন কোন ব্যক্তি থাকাও সম্ভব, যিনি কাশফের মাধ্যমে বিষয়সমূহের স্বরূপ জানবেন; কিন্তু সংস্কার কাজে নিয়োজিত থাকবেন না। এমন ব্যক্তিকে নবী না বলে ওলী বলা হবে। এখন যে ব্যক্তি নবীগণকে মানবে এবং সত্য স্বপ্নের সত্যায়ন করবে, তাকে অব্যশই মেনে নিতে হবে যে, অন্তরের দু‘টি দরজা রয়েছে- একটি বহির্জগত অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের দিকে এবং অপরটি উধ্বংজগতের দিকে, একেই বলা হয় ইলহাম ও ওহী। (ইহ্ইয়াউ উলুুমিদ্দীন)
গাউছে পাক, বড়পীর আব্দুল কদের জিলানী (রহঃ), তাঁর কিতাবে উলেখ করেন…
“….কদর রাতে হযরত জিবরাঈল (আঃ) জমিনে আগমন করার পর প্রত্যেক মুসলমানকে (ওলী বান্দাদের) সালাম করেন এবং তাদের সাথে মোসাফাহ্ করেন। উহার প্রমাণ এই যে, এই সময় মানুষের দেহের লোম খাড়া হয়, অন্তকরণ নরম হয়, অশ্র“ প্রবাহিত হয়। বর্ণিত আছে, হযরত মুহাম্মদ (সা) তাঁহার উম্মতের চিস্তায় খুবই পেরেশান। এই জন্য আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে মুহাম্মদ! চিস্তা ভাবনা করিও না। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার উম্মতদেরকে অন্যান্য নবীদের ন্যয় পদমর্যাদা দান না করব, তাদেরকে নেতৃস্থানীয় না করব ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদেরকে মৃত্যু দান করব না। ফেরেশতাগণ নবীদের নিকট ওহী এবং সংবাদ বহন করে আর কদর রাতে তোমার উম্মতদের নিকট আমি ফেরেশতা প্রেরণ করিয়া থাকি।“ (গুনিয়াতুত ত্বালিবীন-১ম খন্ড)
মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদীর ভাষায়- শরীআত ও তরীকতের মাঝে মৌলিক কোন বিরোধীতা ও সংঘর্ষ নেই। তরীকতের বিশি“ ব্যক্তিগণ স্প“ভাবে জানিয়েছেন, শরীআ’তের পূর্ণতাই হলো তরীকত তথা তাসাওউফ। রাসূল (সাঃ) এর অনুকরণ যতক্ষণ পর্যন্ত বাহ্যকর্মের সাথে সীমাবদ্ধ থাকে তখন তার নাম হয় শরীআ’ত। আর যখন অন্তলোক (বাতিন) রাসূল পাকের নূরানী আভায় আলোকিত হয়ে যাবে, তখন তার নাম তরীকত তথা তাসাওউফ।
একদা রাসুল (সাঃ) সাহাবাদের নিয়ে মসজিলে বসে আছেন। এমন সময় হযরত জিব্রাঈল (আঃ) ছদ্মবেশে নবীজির সম্মুখে বসে তিনটি বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি প্রথমে প্রশ্ন করেন ঈমান নিয়ে। নবী করিম (সা) উত্তরে বললেন, ঈমান হলো তুমি আল্লাহ, ফেরেশতা, নবীগণ এবং মরণোত্তর পূনর্জীবনের ওপর ঈমান আনবে। জিব্রাঈল (আঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন ইসলাম কি? তিনি উত্তরে বললেন, ইসলাম হলো, তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। নামায প্রতি‘া করবে। যাকাত আদায় করবে এবং রমজান মাসের রোজা রাখবে। প্রশ্নকারী (জিবরাঈল) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ইহ্সান কী? রাসূল (সা) বলেন, ইহ্সান হল- তুমি এমনভাবে ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছো। যদি তুমি তাঁকে নাও দেখো, তিনি তো তোমাকে দেখছেন।” মুহাদ্দিসগণ একে ‘হাদীসে জিব্রাঈল’ নামে ভূষিত করেন। (বুখারী শরীফ, খ.১, পৃ‘া ১২)
উলিখিত হাদীসে মুমিনের তিনটি ¯ বর্ণনা করা হয়েছে ঃ ঈমান, ইসলাম ও ইহ্সান। ঈমান ও ইসলাম হল বিশ্বাস ও কর্মের নাম । এ দু‘টির ওপরও আরেকটির স্থান রয়েছে, যাকে হাদীসের ভাষায় ‘ইহসান‘ বলা হয়েছে। শাহ্ ওয়ালীউলাহ্ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ), এটাকেই তাসাওউফ ও তরীকত বলেছেন । (হাম‘আত ৪৪-৪৬)
শরীয়াত মূলত কুরআন সুন্নাহ নির্ভর আদেশ-নিষেধের নিয়মের নাম, যা ব্যক্তিক ও সামাজিক জীবনকে সুশৃঙ্খলিত করে। আর সেই কাজকে সৎ ইচ্ছা ও পূর্ণ নি‘ার অলংকারে সজ্জিত করে শরীআ’তের অনুসরণকে ইহ্সানের ¯রে উন্নীত করার নামই তাসাওউফ। (তাসাওউফের আসল রূপ- ড: তাহির উল কাদরি)
বর্ণিত আছে ফজরের সুন্নাতের পর পেয়ারা নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) দোয়া পাঠ করতেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) আমার পিতা আব্বাস (সা) নিকট পাঠিয়েছিলেন। আমি সন্ধ্যার সময় তার খিদমতে হাজির হলাম। তখন তিনি আমার খালা মায়মুনার ঘরে অবস্থান করছিলেন। এরপর তিনি রাতে উঠে সালাত আদায় করতে থাকেন। ফজরের সুন্নাত শেষ হলে তিনি এ দুআ পাঠ করলেন।
(দোয়াখানা অনেক দীর্ঘ বিধায় কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হল)
“ হে আল্লাহ তায়ালা আমি তোমার নিকট এমন রহমত চাই, যা দিয়ে তুমি আমার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করবে, আমার সংশয় যুক্ত বিষয়াদিকে সংহত করবে। আমার পেরেশানী দূর করবে। আমার মুহাব্বাতকে ফিরিয়ে আনবে। আমার দ্বীন বিশুদ্ধ করবে। আমার অদৃশ্যবস্তুর সংরক্ষণ করবে। আমার উপস্থিত বিষয়কে সমুন্নত করবে। আমার আমল পুতপবিত্র করবে। আমার চেতনা উজ্জ্বল করবে। আমার অন্তরে সুমতি জাগাবে। এবং সকল খারাপ কাজ থেকে আমাকে হেফাজত করবে।……. তোমার দুশমন বিরুদ্ধে যোদ্ধা এবং তোমার ওলীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারী বানাও। আমরা যেন তোমার ভালবাসার কারণে ভালবাসি সে ব্যক্তিকে যে সৃষ্টির মধ্য থেকে অনুগত।….. নিশ্চয়ই তুমি দয়ালু ও প্রিয়। তুমি যা ইচ্ছা তাই কর। পবিত্র সেই সত্তা, যিনি সম্মানের চাদর পরিধান করেছেন এবং তদ্বারা মহান হয়েছেন। পবিত্র সেই সত্ত্বা যাকে ব্যতীত কারও পবিত্রতা বর্ণনা করা উচিত নয়। কৃপা ও অনুগ্রহের মালিক। দান ও সামর্থের মালিক। পবিত্র তিনি যিনি ইলম দ্বারা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। ইয়া এলাহী! আমার অন্তরে নূর দান কর, আমার কবরে নূর, আমার কর্ণে নূর, আমার চোখে নূর, আমার ত্বকে নূর, আমার গোশতে নূর, আমার রক্তে নূর, আমার অ¯িত্বে নূর, আমার সামনে নূর, আমার পেছনে নূর, আমার ডানে নূর, বামে নূর, আমার উপরে নূর এবং আমার নীচে নূর দান কর। এলাহি আমার নূর বাড়িয়ে দাও। আমাকে নূর দান কর এবং আমার জন্য নূর বরাদ্দ কর।” ( সুবহানআল্লাহ)
