কীভাবে একজন সঠিক বা ‘হক্কানি’ পীর চেনা যায়?

বর্তমান সময়ে চারদিকে ভণ্ড পীরের ছড়াছড়ির কারণে একজন প্রকৃত বা হক্কানি পীর চিনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ওলামায়ে কেরাম এবং আধ্যাত্মিক ইমামগণ হক্কানি পীর চেনার জন্য প্রধানত ৪টি মৌলিক মানদণ্ড বা শর্ত উল্লেখ করেছেন:

১. কোরআন ও সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ

একজন হক্কানি পীরের প্রথম এবং প্রধান লক্ষণ হলো তিনি শরিয়তের চুল পরিমাণ লঙ্ঘন করবেন না।

  • তার লেবাস-পোশাক, কথা-বার্তা এবং কাজকর্মে সুন্নাহর প্রতিফলন থাকবে।
  • তিনি নামাজ, রোজা এবং ইসলামের মৌলিক বিধানগুলোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্নশীল হবেন।
  • মনে রাখবেন: যদি কোনো পীর বলেন, “আমি মারেফাত পেয়ে গেছি, আমার জন্য নামাজ লাগে না”—তবে তিনি নিশ্চিতভাবে ভণ্ড।

২. সঠিক আকিদা ও ইলম (জ্ঞান)

একজন হক্কানি পীরকে অবশ্যই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সঠিক আকিদার অনুসারী হতে হবে।

  • তার মধ্যে অন্তত অতটুকু দ্বীনি জ্ঞান থাকতে হবে যা দিয়ে তিনি নিজের এবং মুরিদদের দৈনন্দিন জীবনের মাসআলা-মাসায়েল সমাধান করতে পারেন।
  • তিনি নিজে যদি আলেম না হন, তবে আলেমদের শ্রদ্ধা করবেন এবং জটিল বিষয়ে আলেমদের পরামর্শ নেবেন।

৩. যোগ্য উস্তাদ বা শায়খের অনুমতি (খিলাফত)

পীর-মুরিদী কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ নয় (বাবার গদিতে ছেলে বসা)।

  • হক্কানি পীর হতে হলে তাকে অবশ্যই কোনো স্বীকৃত হক্কানি পীরের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ সময় থাকতে হবে।
  • তার কাছে তার মুর্শিদের দেওয়া ‘খিলাফত’ বা মানুষের সংশোধনের অনুমতিপত্র থাকতে হবে। তার আধ্যাত্মিক ধারা (সিলসিলা) রাসূল (সা.) পর্যন্ত যুক্ত থাকতে হবে।

৪. মজলিসের প্রভাব ও ফলাফল

একজন প্রকৃত পীরের সান্নিধ্যে গেলে মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় এবং পরকালের চিন্তা তৈরি হয়। এটি চেনার সবচেয়ে ব্যবহারিক উপায়:

  • তার কাছে বসলে দুনিয়ার মোহ কমে যায় এবং আল্লাহর মহব্বত অন্তরে জাগ্রত হয়।
  • মুরিদদের জীবনে পরিবর্তন আসে (যেমন: যারা আগে নামাজ পড়ত না, তারা নামাজি হয়ে যায়; যারা মিথ্যা বলত, তারা সত্যবাদী হয়ে যায়)।
  • তিনি মুরিদদের নিজের গোলাম বানান না, বরং আল্লাহর গোলাম বানানোর চেষ্টা করেন।

কিছু লাল পতাকা (সতর্ক সংকেত)

নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো কোনো পীরের মধ্যে দেখলে তাকে এড়িয়ে চলা উচিত:

  • নারীদের সাথে অবাধ মেলামেশা: পীর যদি বেগানা নারীর সাথে পর্দা না করেন বা তাদের স্পর্শ করেন (মুরিদ বানানোর নামেও), তবে তিনি হক্কানি নন।
  • সেজদা গ্রহণ: যদি পীর তাকে সেজদা করার অনুমতি দেন বা দাবি করেন, তবে তিনি স্পষ্ট গোমরাহিতে আছেন।
  • শরিয়ত বিরোধী কাজ: গান-বাজনা, নাচ (যাকে অনেকে হালকা বা জিকির বলে ভুল করেন), বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রচলন থাকা।
  • দুনিয়া অর্জনের লক্ষ্য: যদি পীরের প্রধান উদ্দেশ্য হয় মুরিদদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা বা হাদিয়া আদায় করা।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর একটি উক্তি: “যদি দেখ কোনো ব্যক্তি আকাশে উড়ছে বা পানির ওপর দিয়ে হাঁটছে, কিন্তু সে শরিয়তের একটি হুকুমও লঙ্ঘন করছে, তবে বুঝবে সে ওলি নয়, বরং সে শয়তান।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home
Account
Whatsapp
Search