আরেকটি প্রশ্ন মনে আসতে পারে ওলীগন ওফাত বরন করার পর জীবিত থাকলে তবে তাদের জীবন কি আমাদের মত….?
عَنْ مَسْرُوقٍ قَال:َ سَأَلْنَا عَبْدَ اللَّهِ (هو ابن مسعود -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ-) عَنْ هَذِهِ الْآيَة:ِ ﴿وَلَاتَحۡسَبَنَّ ٱلَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمۡوَٰتَۢاۚ بَلۡ أَحۡيَآءٌ عِندَ رَبِّهِمۡ يُرۡزَقُونَ﴾ قَالَ: أَمَا إِنَّا قَدْ سَأَلْنَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : «أَرْوَاحُهُمْ فِي جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ لَهَا قَنَادِيلُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ تَسْرَحُ مِنْ الْجَنَّةِ حَيْثُ شَاءَتْ ثُمَّ تَأْوِي إِلَى تِلْكَ الْقَنَادِيلِ
মাসরুক থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন আমরা আব্দুল্লাহ ইব্ন মাসউদকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম….. “আর যারা আল্লাহর পথে জীবন দিয়েছে, তাদেরকে তুমি মৃত মনে করো না,বরং তারা তাদের রবের নিকট জীবিত। তাদেরকে রিযক দেয়া হয়…তিনি বলেন, জেনে রেখ, আমরাও এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তাদের রূহগুলি সবুজ পাখির পেটে, যার জন্য রয়েছে আরশের সাথে ঝুলন্ত প্রদীপ,সে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা ভ্রমণ করে, অতঃপর উক্ত প্রদীপে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে।
দলিল**
*(ক.) সহীহ মুসলিম,কিতাবুল ইমারাত, হাদীস নং-১৮৮৭
*(খ.) সুনানে ইবনে মাজাহ,কিতাবুল জিহাদ,হাদীস নং-২৮০১
*(গ.) সুনানে তিরমিজি,কিতাবু জিহাদ, হাদীস নং-৩০১১
*(ঘ.) সুনানে দারমী,কিতাবুজ জিহাদ, হাদীস নং-২১৪০
👌অর্থাৎ প্রথমে তো পবিত্র কুরানে উক্ত আয়াত (যা হাদিসে উল্লেখিত) থেকে বোঝা যায় তারা আল্লাহর তরফ থেকে রিজিক পায়…. যেমন দুনিয়ার বুকে মানূষ পেয়ে থাকে… এবং তারা জান্নাতের যেখানে খুশি বিচরন করে তাদের আশ্রয় স্থল… অর্থাৎ আল্লাহ তাদের জন্য প্রদীপ মত বানিয়ে দিয়েছেন সেখানে পুনরায় ফিরে যান… যেমনটি আমরা দুনিয়া বাসী দুনিয়ায় বিচরন করি.. সেই জন্য ইবনে জৌযি বলেন :
ﻭﻳﺪﻝ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ﺃﻥ ﺍﻟﺸﻬﺪﺍﺀ ﺑﻌﺪ ﻗﺘﻠﻬﻢ ﻭﻣﻮﺗﻬﻢ ﺃﺣﻴﺎﺀ ﻋﻨﺪ ﺭﺑﻬﻢ ﻳﺮﺯﻗﻮﻥ ﻓﺮﺣﻴﻦ ﻣﺴﺘﺒﺸﺮﻳﻦ ﻭﻫﺬﻩ ﺻﻔﺔ ﺍﻷﺣﻴﺎﺀ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ
সেই কারনে শহীদগন তাদের কতল ও তাদের মৃত্যু ঘটার পরও নিজের রবের নিকট জীবত এবং রিযক প্রাপ্ত… আনন্দিত ও উৎফুল্ল যা পৃথিবীতে যারা বেচে আছে তাদের বৈশিষ্ট ..
[কিতাবুর রুহ,ইবনে কাইয়াম জোউযি,১ম খন্ড,পৃষ্ঠা-৩৬,দারুল কিতাব আলিমিয়া, বৈইরুত]
👏আর ইমাম বাইহাকি (রহ:) বলেন
قال البيهقي في كتاب الاعتقاد : الأنبياء بعد ما قبضوا ردت إليهم أرواحهم فهم أحياء عند ربهم كالشهداء
ইমাম বাইহাকি (রহ:) তার এইতেকাদ কিতাবে বলেন….নবীগনকে তাদের রুহ গুলি কবজ করার পর ফিরিয়ে দেওয়া হয়… তাই তারা শহীদ গনের ন্যায় জিবীত….
♠♠ ♠♠ ♠♠ ♠♠
★১৩. শহীদগণ আলমে বরযখে কিভাবে জীবিত অবস্হায় জীবন অতিবাহিত করেন এবং রিযিক লাভ করেন??
✌এ সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন,রাসূলুল্লাহ (ﷺ)
ইরশাদ করেছেন:
أَرْوَاحهمْ فِي جَوْف طَيْر خُضْرٍ لَهَا قَنَادِيل مُعَلَّقَة بِالْعَرْشِ تَسْرَح مِنْ الْجَنَّة حَيْثُ شَاءَتْ
“শহীদগণের রূহ সবুজ রঙের পাখির পেটের ভিতরে বিশেষ সম্মানিত অবয়বে অনন্য জীবন লাভ করে। আর তাদের জন্য আরশে প্রদীপসমূহ লটকানো হয়। তারা জান্নাতে যেখানে খুশীতে বিচরণ করেন।”
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮৭]
👌হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
الشُّهَدَاءُ عَلَى بَارِقِ نَهْرٍ بِبَابِ الْجَنَّةِ ، وَيَظْهَرُ بِبَابِ الْجَنَّةِ فِي قُبَّةٍ خَضْرَاءَ يَخْرُجُ عَلَيْهِمْ رِزْقُهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ بُكْرَةً وَعَشِيًّا
“শহীদগণ জান্নাতের দ্বারে নির্ঝরণীর ঝলকে সবুজ গম্বুজের মধ্যে অবস্হান করেন। তখন জান্নাত থেকে সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের নিকট রিযিক আগমন করে।”
[মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২৩৮৬]
👏অপরদিকে সাধারণ মুমিনগণের রূহ সম্পর্কে হযরত কা‘ব ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন:
إِنَّمَا نَسَمَةُ الْمُؤْمِنِ طَائِرٌ يَعْلُقُ فِي شَجَرِ الْجَنَّةِ ، حَتَّى يُرْجِعَهُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِلَى جَسَدِهِ يَوْمَ يَبْعَثُهُ
“মুমিনের রূহ পাখিরূপে জান্নাতের গাছে বিচরণ করে-যে পর্যন্ত রোজ কিয়ামতে তার দেহে তাকে ফেরানো না হবে।”
[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৫৩৫১]
👌শহীদগণের রূহ তারকার ন্যায়-যা সবুজ পাখির ভিতর প্রবেশ করে। পক্ষান্তরে সাধারণ মুমিনগণের রূহ স্বয়ং পাখির স্বরূপ হয়ে যায়।
[তাফসীরে ইবনে কাসীর,২য় খণ্ড, ১৬৪ পৃষ্ঠা]
★১৪. প্রশ্ন হতে পারে সত্যি কি নবী গন (আলাইহিস সালাম) ও শহীদদের রুহ তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়…. কারন আবার বড় বড় পন্ডিত আছেন যাদের ইমামদের বক্তব্য হজম হয়না…আসুন হাদীসের আলাকে দেখি….তাদের বক্তব্য হাদীসের বিরুদ্ধে নয়…
باب زيارة القبور
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه قال : ” ما من أحد يسلم علي إلا رد الله علي روحي حتى أرد عليه السلام ”
আবু হুরাইরা হইতে বর্নিত…. রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন….যদি তোমাদের মধ্যে কেউ আঁমার উপর সালাম প্রেরন করে…. আল্লাহ আঁমার রুহ আঁমার নিকট ফিরিয়ে দেন….আঁমি ঐ লোকের সালামের জবাব দিব…
দলিল
*(ক.) সুনানে আবু দাউদ,২য় খন্ড,বাব যিয়ারাতে কুবুর,হাদীস নং-২০৪১
*(খ.) ইমাম তাবরানি মাআজুমুল আউসাত,২য় খন্ড,হাদীস নং-৩০৯২
*(গ.) ইমাম বাইহাকি শুয়াবুল ইমান,২য় খন্ড,হাদীস নং-১৫৪১
*(ঘ.) মিশকাতুল মাসাবীহ,১ম খন্ড,হাদীস নং-৯২৫
*(ঙ.) মাজমাউজ যাওয়াইদ,হাদীস নং – ১৭২৯৬
*(চ.) মুস্নাদে আহমাদ,হাদীস নং-১০৮২৭
👏হয়তো প্রশ্ন উঠতে পারে…. এখানে তো নবীর কথা বলা হয়েছে… শহীদের ব্যাপারে.কোথায় .. নবী আর শহীদকে এক করলেন…?
★উত্তর নবীদের (আলাইহিসসালাম) নবুয়াতের মর্যদার সঙ্গে সঙ্গে শহীদের মর্যদাও পান তাই তাদের মর্যাদা শহীদের উর্ধে যেমন একটা হাদীস লক্ষ করলে বুঝতে পারবেন নবী (আলাইহিসসালাম) আল্লাহর রাস্তায় কতল না হয়েও শহীদ. এই হাদিস লক্ষ করুন
. حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : ” لَأَنْ أَحْلِفَ بِاللَّهِ تِسْعًا ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُتِلَ قَتْلًا ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ وَاحِدَةً ، وَذَلِك بِأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اتَّخَذَهُ نَبِيًّا ، وَجَعَلَهُ شَهِيدًا
“হজরতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করিম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শহীদ করা হয়েছে এই মর্মে আমার নিকট নয়বার শপথ করা অধিক প্রীয়,তাকে শহীদ করা হয়নি একবার শপথ করার থেকেও…. কারণ আল্লাহ তাআলা যেমন তাকে নবী হিসাবে গ্রহন করেছেন তেমন শহীদ হিসাবেও… গ্রহন করেছেন…
দলিল**
*(ক.) মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং-৩৪৮৫, ৩৭৪২, ৩৯৯৪,
*(খ.) হাকিম আল মুস্তাদরাক,৩য় খন্ড, হাদীস নং-৪৩৩৯
*(গ.) মুসনাদে আব ইয়ালা,হাদীস নং- ৫১৫১
*(ঘ.) ইমাম বাইহাকি,দালায়েলু নবুয়াহ, হাদীস নং-৩১০৩
*(ঙ.) ইবনে সাআদ,তাবকাতুল কুবরা, হাদীস নং-১৯৮১
👏ছিদ্দিক বান্দারা শহীদদের মত ( জিবীত) হবে। আর ছালেহীন অর্থাৎ আওলিয়াগণও তাঁদের সাথে মিলিত হবে [তাফছিরে মাজহারী,১ম খন্ড,১৭০ পৃঃ]
✌সুতরাং ছিদ্দিক ও ছালেহীন অর্থাৎ আওলিয়াগণ শহীদদের মতই জিবীত। সুতরাং আল্লাহর ওলীগণও জিবীত।
♠মুফাসসিরিনে ক্বিরাম (র:) বলেন,অর্থাৎ : “নিশ্চয়ই আম্বিয়া ও আউলিয়াগণের জীবন হাকীকতের মধ্যে (প্রকৃতপক্ষে) অবিনশ্বর।আর তাঁদের অমরজীবনকে জাহেরী মৃত্যু বিনষ্ট করতে পারে না।কেননা, জাহেরী মৃত্যু রুহের বিচ্ছিন্নতা দ্বারা শরীরের উপর সংঘটিত হয়ে থাকে।তাঁদের দেহ মাটি ভক্ষণ করে না, তাঁরা সশরীরে জীবিতদের ন্যায়, তাই তাঁরা ইন্তেকালের বা জাহেরী মৃত্যুর পরেও মানুষকে সাহায্য করতে সক্ষম।তাঁদের কবর শরীফ হতে সদা সর্বদা ফয়েজ জারী থাকে।”
দলিল*
*(ক.) তাফসীরেরুহুল বায়ান,‘সূরা- আদ্ দোখান’,২য় খন্ড,৩২৩ পৃষ্ঠা।
*(খ.) তাফসীরে হাক্বক্বী- ১৩তম খন্ড, ২৮১ পৃষ্ঠা।
👌রুহ্ হচ্ছে আল্লাহর হুকুম। দুনিয়ার জীবনযাপন পর্ব শেষে ওফাতের মাধ্যমে তাঁরা এরুপ জীবন লাভ করেন যে ওফাত পরিবর্তীতে আল্লাহর হুকুম তথা রুহ্ লাভ করে জীবিত থাকেন, আহার করেন।অথচ:দুনিয়ায় যারা জীবিত রয়েছে তারা তা বুঝতে পারে না।
✌আল্লাহ পাক যদি মা-বাপ ছাড়া,হযরত আদম (আঃ) কে,ফুৎকার দ্বারা হযরত ঈসা (আঃ) কে সৃস্টি করতে পারেন, তাহলে সে আল্লাহ কি হায়াতে জিন্দেগী থেকে পর্দা নেওয়ার পর তাদের জীবিত ও আহারের ব্যবস্থা করতে পারেন না।হ্যাঁ অবশ্যই পারেন। কেননা আল্লাহর কুদরত বুঝা বড়ই কঠিন!!! এরপরও যদি বলেন বুঝে আসেনা,তা কি করে সম্ভব? “বলব! আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন।
👏 নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা’লা তাঁদের রুহুকে দেহের মত হ্মমতা দান করেন, ফলে তাঁরা ঐ হ্মমতা দ্বারা পৃথিবী, আসমান ও জান্নাতের যততত্র ভ্রমন করতে পারে, আপনজন বিপদে পরলে সাহায্য করতে পারে ও দুশমনদের পর্যদস্ত করতে পারে।
[তাফছিরে মাজহারী,১ম খন্ড, ১৬৯ পৃঃ]
♣এই দলিল দ্বারা বুজা যায় আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ ইন্তেকালের পর তাঁদেরকে আবার দেহ দান করা হয় এবং ঐ দেহ দ্বারা বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমনও করতে পারে। ত্বরিকতের ভাষায় ঐ দেহকে বলা হয় ” ওজুদ মাহুবলাহু ” অথবা ” তেফলুল মায়ানী “।”
[সাথে থাকুন ইন-শা-আল্লাহ আলোচনা আরও চলবে।]
♦মহান আল্লাহ পাকের ওলীগন কি ওফাত বরন করার পর জীবিত নাকি মৃত!!-৫ম পর্ব
★১৫. রাসুল (ﷺ) বলেছেন – যখন কোন ব্যক্তি পবিত্র আত্মার অধিকারী হয়, তখন তার দেহ জমিন কখনো ভক্ষণ করে না।”
[তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩য় খন্ড,৬২৭ পৃষ্ঠা]
✌হযরত আনাস (রাঃ) বর্নণা করেছেনঃ রাসুল (ﷺ) বলেছেন -নিশ্চয়ই সমস্ত মোমিন ব্যক্তি -(নবী,ওলীগন ) তাঁদের মাজারে জীবিত এবং রিজিক প্রাপ্ত।
[বায়হাক্কী শরীফ মুসনাদে আবী ইয়ালা, মুসনাদে আবী নুয়াইম ২য় খন্ড,পৃষ্ঠা নং -৪৪ মেশকাত শরিফের -১০ খন্ড পৃষ্ঠা নং-৫৫৩। সহিহ হাদিস]
👏রাসুলে পাক (ﷺ) বলেছেন – নিশ্চয়ই সমস্ত নবীগণ তাঁদের নিঁজ নিঁজ মাজারে জিন্দা আর তাঁরা শহীদের চেয়েও উত্তম এবং রবের পক্ষ থেকে জীবিত।”
[ইবনে আদী,মেশকাত শরিফ ১০খন্ড পৃষ্ঠা নং-৫৫৩ সহিহ হাদিস]
★১৬. অপর হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে
عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليه و سلم، رقم الحديث-1637)
হযরত আবু দারদা (রা:) থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আঁমার উপর দরুদ পড়ে তখনই তা আঁমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা (রা:) বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-ইন্তিকালের পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিঁনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।
দলিল*
*(ক.) ইবনে মাজাহ,হা/১৬৩৬,১৬৩৭
*(খ.) সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হা/৪৬৯
*(খ.) আল মুজামুল আওসাত,হা/৪৭৮০
*(গ.) সুনানে দারেমী,হা/১৫৭২
*(ঘ.) মুসনাদুল বাজ্জার,হা/৩৪৮৫
*(ঙ.) মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,হা/৫৭৫৯
★১৭. এক নেককার যুবক তথা আল্লাহর ওলীর সাথে হযরত ওমর ফারুক (রা:) এর কথা বলাই তা প্রমান করে অলীগন জীবিত : একদিন হযরত ফারুকে আ’যম রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এক নেককার যুবকের কবরে তাশরীফ নিলেন এবং বলেন,হে অমুক! আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন…
ওয়া লিমান খাফা মক্বামা রব্বিহী জান্নাতান
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আপন প্রতিপালকের সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে,তার জন্য দুটি জান্নাত রয়েছে।
[সূত্র:পারা 27 সুরা আর রহমান আয়াত 46]
হে যুবক! বলো,তোমার কবরের কী অবস্থা? তখন যুবকটি কবরের ভিতর থেকে আওয়াজ দিলেন…
ওহে আমীরুল মু’মিনীন! ক্বাদ আ’ত্বানীহিমা রব্বী আযযা ওয়া জাল্লা ফীল জান্নাতি
অর্থাৎ আমার রব তাআলা! আমাকে সেই দুটি জান্নাতই দান করেছেন।
[তারিখে দামেস্ক লিইবনে আসাকির 45তম খন্ড 450 পৃষ্ঠা,তাফসীরে ইবনে কছিীর]
👏উক্ত হাদিসের সাথে সম্পর্কিত বহু সহিহ হাদিস আছে:
🌹ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ (রা:) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সা) বছরের প্রারম্ভে ওহুদ যুদ্ধে শহীদদের সমাধি জেয়ারতে যেতেন এবং বলতেন:
السلام عليکم بما صبرتم فنعم عقبي الدار.
আঁপনাদের উপর সালাম! আঁপনারা আঁপনাদের ধৈর্যের ফলস্বরূপ আখেরাতে কি চমৎকার জায়গাই না পেয়েছেন।আবু বকর,উমর এবং ওসমান (রা:) একই ভাবে জেয়ারতে যেতেন।
দলিল*
*(ক.) মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক: ৩:৫৭৩
*(খ.) আইনি, উমদাদুল কারী, ৮:৭০
*(গ.) তাবারী,জামি আল কুরআন, ১৩:১৪২
*(ঘ.) ইমাম সুউতি,দারুল ময়ানসুর, ৪:৬৪১
*(ঘ.) তাফসীর ইবনে ই কাসীর।
★১৮. পবিত্র হাদিসে কুদসীতে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন :
عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله قال من عادى لى وليا فقد اذنته بالحرب- وماتقرب الى عبدى بشئ احب الى مما افترضت عليه وما يزال عبدى يتقرب الى بالنوافل حتى احبه فاذا احببنه كنت سمعه الذى يسمع به وبصره الذى يبصربه ويده التى يبطش بها ورجله التى يمشى بها- (اخرجه البخاارى)
অর্থাৎ : “হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, প্রিয় নাবী রাসূলুন কারিম (صلى الله عليه و آله وسلم) ইরশাদ করেন, আল্লাহ্ তা’আলা (হাদীসে কুদসীতে) বর্ণনা করেন,যে লোক আঁমার অলীর সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে,আঁমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিই।
ফরজ (ইবাদাত) আদায় করার দ্বারা বান্দা যতটুকু আঁমার নৈকট্য অর্জন করতে পারে তা আর কোন কিছু দ্বারা পারে না।আঁমার বান্দা নফল ইবাদতসমূহ আদায়ের মাধ্যমে আঁমার নৈকট্য অর্জন করে থাকে।এমনকি এক পর্যায়ে আঁমি তাঁকে আমার প্রিয়পাত্র করে নিই।
যখন তাঁকে প্রিয়পাত্র করি তখন আঁমি তাঁর শ্রবণ শক্তি হয়ে যাই যাদ্বারা সে শুনে।আঁমি তাঁর দৃষ্টিশক্তি হয়ে যাই যাদ্বারা সে দেখে।তাঁর হাত হয়ে যাই যার মাধ্যমে সে ধরে।তাঁর পা হয়ে যাই যাদ্বারা সে চলে।
[সহীহ বুখারী শরীফ,কিতাবুর রিকাক, হাদীস ৬৫০২]
♠হযরত কাযী আয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু শিফা শরীফে উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন বান্দা যখন নিজকে রাব্বুল আলামীনের ইশক্ব ও মহব্বতের আগুনে পুড়ে পুড়ে নিজের অস্তিত্বকে সম্পূর্ণরূপে বিলীন করে দেয় তখন আল্লাহর নূর দ্বারা তাঁর শরীর নূরানী হয়ে যায়।তখন তিনি আল্লাহর নূরের সাহায্যে দেখেন শুনেন,বলেন।
তখন তাঁর চলা-ফেরা, উঠা-বসা, দেখা-শুনা, চলন-কথন প্রতিটি পর্যায়ে অনন্য অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র প্রতিভাত হয়।তখন তাঁর সাক্ষাতে আল্লাহর বান্দাদের অন্তরে পরিশুদ্ধ হয় নৈতিক ও চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জিত হয়।তাঁদের সান্নিধ্যে মানুষ আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন হয়, তাঁদের মহব্বত ও সুহবাতে মুক্তিকামী সত্যান্বেষী মানুষগুলো সিরাতুল মুস্তাকীম তথা সঠিক পথের সন্ধান লাভে ধন্য হয়।
আমরা আউলিয়ায়ে কেরামের মাজার জিয়ারত করে তাঁদের নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া চাই।আমাদের পক্ষ হয়ে তাঁরা আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করলে, আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করেন।তাঁরা ওফাতের পরেও জীবিত। বর্ণিত হাদিসটিই তার অকাট্য দলিল।
✌ ইবনে তাইমিয়া তার মাজমুয়াতুল ফাতাওয়া-এ লিখেছে :
অর্থাৎ : “একটি আছার বর্ণিত আছে, হে আমার বান্দা, আমি যখন কিছুকে হও বলি,তা হয়ে যায়।তুমি আমার আনুগত্য করো। আমি তোমাকে এমন বানাবো যে, তুমি কিছুকে হও বললে তা হয়ে য়াবে।
হে আমার বান্দা। আমি চিরঞ্জীব, যে কখনও মৃত্যুবরণ করবে না।তুমি আমার আনুগত্য করো, আমিও তোমাকে এমন জীবন দান করবো যে, তুমি মৃত্যুবরণ করবে না।”
✌অপর একটি বর্ণনায় রয়েছে।
অর্থাৎ : “মু’মিনের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে হাদিয়া এসে থাকে।এমন সত্ত্বার কাছ থেকে হাদিয়া আসে যিনি চিরঞ্জীব, কখনও মৃত্যুবরণ করবে না।এমন বান্দার কাছে হাদিয়া আসে যে কখনও মৃত্যুবরণ করবে না।”
✌ইবনে তাইমিয়া আরো বলেছে,
অর্থাৎ : “একজন মু’মিনের এটিই চূড়ান্ত স্তর। এরপরে কোন উদ্দিষ্ট স্তর নেই।এটা কেনো হবে না? সে আল্লাহর মাধ্যমে শ্রবণ করে, আল্লাহর মাধ্যমে দেখে, আল্লাহর মাধ্যমে ধরে, আল্লাহর মাধ্যমে হাঁটে, সুতরাং আল্লাহর শক্তিতে কী সে বলিয়ান হবে না?”
[মাজমুয়াতুল ফাতাওয়া,৪র্থ খন্ড,পৃ: ২৩০-২৩১]
★১৯. আওলীয়া আল্লাহ (রহঃ) তাদের কবরে জীবিত থাকেন।হাদীসের আলোকে কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে লক্ষ করি……
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟْﻤَﻠِﻚِ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﺍﻟﺸَّﻮَﺍﺭِﺏِ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦُ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ﺍﻟﻨُّﻜْﺮِﻱُّ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺍﻟْﺠَﻮْﺯَﺍﺀِ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ، ﻗَﺎﻝَ ﺿَﺮَﺏَ ﺑَﻌْﺾُ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺧِﺒَﺎﺀَﻩُ ﻋَﻠَﻰ ﻗَﺒْﺮٍ ﻭَﻫُﻮَ ﻻَ ﻳَﺤْﺴِﺐُ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺒْﺮٌ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻓِﻴﻪِ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٌ ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﺳُﻮﺭَﺓَ ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﺣَﺘَّﻰ ﺧَﺘَﻤَﻬَﺎ ﻓَﺄَﺗَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻧِّﻲ ﺿَﺮَﺑْﺖُ ﺧِﺒَﺎﺋِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﻗَﺒْﺮٍ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻻَ ﺃَﺣْﺴِﺐُ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺒْﺮٌ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻓِﻴﻪِ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٌ ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﺳُﻮﺭَﺓَ ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﺣَﺘَّﻰ ﺧَﺘَﻤَﻬَﺎ . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ” ﻫِﻲَ ﺍﻟْﻤَﺎﻧِﻌَﺔُ ﻫِﻲَ ﺍﻟْﻤُﻨْﺠِﻴَﺔُ ﺗُﻨْﺠِﻴﻪِ ﻣِﻦْ ﻋَﺬَﺍﺏِ ﺍﻟْﻘَﺒْﺮِ ” . ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﺣَﺪِﻳﺚٌ ﺣَﺴَﻦٌ
ইবনু আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী একটি কবরের উপর তার তাবু খাটান… তিনি জানতেন না যে, সেটি একটি কবর…. তিনি হঠাৎ বুঝতে পারেন যে, কবরের ভিতরে একটি লোক সূরা আল-মুলক পাঠ করছে। সে তা পাঠ করে সমাপ্ত করলো… তারপর তিনি নাবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে বললেনঃ ইয়া আল্লাহর রাসূল! আমি একটি কবরের উপর তাঁবু খাটাই…আমি জানতাম না যে, তা কবর। হঠাৎ বুঝতে পারি যে, একটি লোক সূরা আল-মুলক পাঠ করছে এবং তা সমাপ্ত করেছে…. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সূরাটি প্রতিরোধকারী নাজাত দানকারী… এটা কবরের আযাব হতে তিলাওয়াতকারীকে নাজাত দান করে…
দলিল*
*(ক.) সুনানে তিরমিযি,অধ্যায়:ফাজাএলে কুরান,হাদীস নং-২৮৯০
*(খ.) মাআজুমুল,কাবীর,হাদীস নং ১২৮০১
✌হাদীসে লক্ষ করতে পারেন যে কবরে ভিতরে একজন সুরা মুলক পাঠ করছে…. তার অর্থ সে যদি জীবিত না থাকে সুরা মুলক পাঠ করতে পারছেন কি করে.. অর্থাৎ বোঝা যায় আল্লাহর ওলীরা (রহ:)কুরান পাঠের মত আমলও কবরে মধ্যে করতে থাকেন…এবং আর একটা জিনিশ লক্ষ করার বিষয় আছে…. আল্লাহর কুদরতে সেই সাহাবীকে(রা আ) জানিয়ে দিলেন তিনি কবরে কুরানের আয়াত পাঠ করছেন..এইবার আওলীয়া আল্লাহ (রহ:) তারা যে কবরে জীবিত তা নিয়ে যারা সন্দেহ করে তাদের জন্য এই ঘটনা দৃষ্টান্ত স্বরুপ।
✌দ্বিতীয় ঘটনা:
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕُ ﺑْﻦُ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞَ ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻭَﻛِﻴﻊٌ ، ﻭَﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﻧُﻤَﻴْﺮٍ , ﻋَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺑِﻴﻊِ ﺑْﻦِ ﺳَﻌْﺪٍ ﺍﻟْﺠُﻌْﻔِﻲِّ ، ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﺳَﺎﺑِﻂٍ ، ﻋَﻦْ ﺟَﺎﺑِﺮِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ” ﺣَﺪِّﺛُﻮﺍ ﻋَﻦْ ﺑَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ، ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻓِﻴﻬِﻢُ ﺍﻷَﻋَﺎﺟِﻴﺐُ ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻧْﺸَﺄَ ﻳُﺤَﺪِّﺙُ ، ﻗَﺎﻝَ : ﺧَﺮَﺟَﺖْ ﺭُﻓْﻘَﺔٌ ﻣَﺮَّﺓً ﻳَﺴِﻴﺮُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﻓَﻤَﺮُّﻭﺍ ﺑِﻤَﻘْﺒَﺮَﺓٍ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻟِﺒَﻌْﺾٍ : ﻟَﻮْ ﺻَﻠَّﻴْﻨَﺎ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺛُﻢَّ ﺩَﻋَﻮْﻧَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻌَﻠَّﻪُ ﻳُﺨْﺮِﺝُ ﻟَﻨَﺎ ﺑَﻌْﺾَ ﺃَﻫْﻞِ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﻤَﻘْﺒَﺮَﺓِ ﻓَﻴُﺨْﺒِﺮُﻧَﺎ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕِ ، ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﺼَﻠُّﻮﺍ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺛُﻢَّ ﺩَﻋَﻮْﺍ ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢْ ﺑِﺮَﺟُﻞٍ ﺧِﻼﺳِﻲٍّ ﻗَﺪْ ﺧَﺮَﺝَ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﺮٍ ﻳَﻨْﻔُﺾُ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ، ﺑَﻴْﻦَ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﺃَﺛَﺮُ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩِ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﻫَﺆُﻻﺀِ ﻣَﺎ ﺃَﺭَﺩْﺗُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﻫَﺬَﺍ ؟ ﻟَﻘَﺪْ ﻣِﺖُّ ﻣُﻨْﺬُ ﻣِﺎﺋَﺔِ ﺳَﻨَﺔٍ ﻓَﻤَﺎ ﺳَﻜَﻨَﺖْ ﻋَﻨِّﻲ ﺣَﺮَﺍﺭَﺓُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔِ ، ﻓَﺎﺩْﻋُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺃَﻥْ ﻳُﻌِﻴﺪَﻧِﻲ ﻛَﻤَﺎ ﻛُﻨْﺖُ ” .
হজরতে জাবীর বিন আব্দুল্লাহ হইতে বর্নিত… তিনি বলেন রসুলুল্লাহ সাল্লালাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইর্শাদ করেন…তোমরা বনী ইসরাইলদের ঘটনা বর্ণনা করো…কেননা তাদের মাঝে অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা সংগঠিত হয়েছে…এরপর রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন,….একদা বনী ইসরাইলের কয়েকজন বন্ধু বের হল…তারা একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল…. তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলো….. আমরা যদি, দুই রাকাত নামায আদায় করে আল্লাহর নিকট দুয়া করি….তাহলে আল্লাহ তায়ালা হয়তো কবরের কোন ব্যক্তিকে আমাদের সামনে উপস্থিত করবেন…সে মৃত্যু সম্বন্ধে আমাদেরকে বলবে….অতঃপর তারা দুরাকাত নামায আদায় করল… এরপর আল্লাহর কাছে দুয়া করল….হঠাৎ এক ব্যক্তি মাথা থেকে মাটি পরিষ্কার করতে করতে কবর থেকে বের হয়ে এল… তার কপালে সিজদার চিহ্ন ছিল… সে বলল, তোমরা কী চাও…? আমি একশ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছি…. এখনও আমার দেহ থেকে মৃত্যুর যন্ত্রনা হ্রাস পায়নি…. আল্লাহর নিকট দুয়া করো, যাতে তিনি আমাকে পূর্বের স্থানে (কবরে) ফেরত পাঠিয়ে দেন“
দলিল*
*(ক.) মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা,হাদীস নং-২৫৯০৫
*(খ.) ইমাম ইবনে হাজার আস্কালানী, মাসানিদে সামানিয়া,হাদীস নং-৮০৭
*(গ.) মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ, হাদীস নং-১১৬৪
*(ঘ.) ফাওয়াইদে তামাম রাযি, পৃষ্ঠা-২১৭
*(ঙ.) তাম্বিউল গাফেলিন,আহাদীসে আম্বীয়া ওয়াল মুরসালিন,পৃষ্ঠা-১১
*(চ.) ইবনে আবি শাইবাহ,আল আদাব, পৃষ্ঠা-২০৬
*(ছ.) ইবনে আবিদ দুনিয়া,মান আশা বা’দাল মাউত,পৃষ্ঠা-৫৮
*(জ.) ফুনুন আল আজাইব, পৃষ্টা-১১৯,১২০
*(ঝ.) মাজালিশ মিন আমালি,পৃষ্ঠা-৩৯৩
*(ঞ.) খাতিব বাগদাদী,আল-জামে আখলাকির রাবী হাদীস নং-১৩৭৮
*(ট.) ইবনে আবি দাউদ, আল-বাআস, হাদীস নং-৫
*(ঠ.) আজ-জুহদ,ইমাম ওয়াকী ইবনে জাররাহ, পৃষ্ঠা-৫৪
*(ড.) ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল,কিতাব- আজ-জুহদ,পৃষ্ঠা-৮৮
*(ঢ.) মাজালিস মিন আমালি ইবনে মান্দাহ, ইবনে মান্দাহ, হাদীস নং- ৩৯৩
*(ণ.) ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ুতী,শরহুস সুদুর,পৃষ্ঠা-৪৩
👏এই ঘটনায় নিশ্চিত ভাবে বনী ইশ্রাইলের নেক স্বলেহ কবর বাসীর বর্ননা হচ্ছে কারন হলো তার মাথায় সেজদার চিহ্নের সম্বন্ধে বর্ননা করা হচ্ছে……. তা প্রমান করে উক্ত কবরবাসী নেক এবং স্বলেহ বা আল্লাহর ওলী ছিলেন…. এই হাদীসে কবর থেকে উঠে আসার ঘটনা থেকেও প্রমান পাওয়া যায়,যে আল্লাহর ওলীরা জীবিত।
★২০. নবীগণের যুগ যতদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে, ততদিন তাঁদের উম্মতের মধ্যেও আল্লাহর অলী বিদ্যমান থাকেন। তাঁদের নবুয়তের যুগ শেষ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে অলীদের যুগও খতম হয়ে যায়।
👏আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের নবুয়ত প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত পূর্ব নবীর উম্মতের মধ্যে বেলায়েত বিদ্যমান ছিল।যেমন বহিরা পাদ্রী ও অন্যান্য হযরত ঈসা (আঃ) এর উম্মত মনিষিগণ মানস চক্ষে নবী করিম (ﷺ) এঁর নবুয়তের পরিচয় পেয়ে অনেক ভবিষ্যৎবাণীও করেছিলেন এবং তা ফলেছে।
★নবী করিম (ﷺ) এঁর আবির্ভাবের পর উম্মতে মোহাম্মদীর মধ্যে বেলায়েত স্থানান্তরিত হয়ে এসেছে।হুজুর আকরাম (ﷺ) এঁর পর যেহেতু আর কোন নবী আসবেন না এবং নবুয়তের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, তাই কেয়ামত পর্যন্ত নবীজীর মুজিযা স্বরূপ তাঁর উম্মতের মধ্যেই বেলায়েত চালু থাকবে।যুগে যুগে ওলীদের আবির্ভাব হতে থাকবে এবং এ ধারা বিশুদ্ধ আকিদাপন্থী তথা আহলে সুন্নতের অনুসারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
[তাফসীরে নাঈমী সুরা ফাতেহা]
♦মহান আল্লাহ পাকের ওলীগন কি ওফাত বরন করার পর জীবিত নাকি মৃত!!-৬ষ্ট পর্ব
★২১. আল্লাহর প্রিয় হাবীব,দোজাহানের বাদশাহ হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (ﷺ) এর ফয়েজ প্রাপ্ত হয়ে এ পর্যন্ত লক্ষ কোটি আল্লাহর অলী পয়দা হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও পয়দা হতে থাকবেন। তাঁদের মাধ্যমেই আল্লাহর যাবতীয় নেয়ামত ও রহমত বর্ষিত হতে থাকবে।
👏ইবনে আসাকীর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে মারফু হাদীস বর্ণনা করেছেন যা মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) মিরকাত শরীফে উল্লেখ করেছেন। উক্ত হাদীসে নবী করিম ( ﷺ ) এরশাদ করেছেন- যার অনুবাদ নিম্নরূপঃ
“আঁমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা তিনশত ছাপ্পান্নজন শীর্ষস্থাণীয় অলী-আল্লাহ বিদ্যমান থাকবেন।তন্মধ্যে তিনশত জন হবেন হযরত আদম (আঃ) এঁর কলবের (হালের) উপর প্রতিষ্ঠিত। চল্লিশজন হবেন হযরত মুছা (আঃ) এঁর কলবের উপর প্রতিষ্ঠিত। সাতজন হবেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এঁর কলবের উপর প্রতিষ্ঠিত।
★পাঁচজন হবেন হযরত জিব্রাইল (আঃ) এঁর কলবের উপর, তিনজন হবেন হযরত মীকাঈল (আঃ) এঁর কলবের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং একজন হবেন হযরত ইসরাফিল (আঃ) এঁর কলবের উপর। তাঁদের মধ্যে উপরের কেউ ইন্তিকাল করলে নীচের স্তর থেকে এনে আল্লাহ তায়ালা উক্ত শূন্যস্থান পূরণ করেন। তাঁদের উছিলায়ই আমার উম্মতের বালা মুসিবত দূর হয়।”
[ মিশকাত শরীফঃ ইয়ামেন ও শাম অধ্যায়ের আব্দাল সম্পর্কীত হাদীসের টীকা নং-১]
👏উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ওলীগণের উছিলায় আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয়বিদ কল্যাণ সাধিত হয়ে থাকে। যারা ওলীর কারামত স্বীকার করে না, তারা গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট।
[পূর্বেও তা আলোচনা করা হয়েছে]
✌ওলীগণের মধ্যে আবার বিভিন্ন স্তর রয়েছে।যাঁদের হতে দুনিয়ার শাসনভার ও শৃঙ্খলা বিধানের ভার ন্যাস্ত, তাঁদের সংখ্যা তিনশত জন। তাঁদেরকে আখইয়ার বলা হয়। যাঁদের উছিলায় রহমতের বারী বর্ষিত হয়ে জমিন ধন-ধান্যে ও শষ্য-শ্যামলে সুশোভিত হয়, তাঁদের সংখ্যা চল্লিশ জন। তাঁদেরকে আবদাল বলা হয়।
👏এ ছাড়া আরও সাতজন জন আছেন যাদেরকে আবরার বলা হয়। পাঁচজন এমন অলী আছেন, যাদেরকে আওতাদ বলা হয়, তাঁদের উছিলায়ই পৃথিবী স্থীর থাকে। এমন তিনজন অলী আছেন, যাঁদের নকীব বলা হয়। আর এমন একজন আছেন, যাঁকে কুতুব ও গাউস বলা হয়। সর্বযুগের গাউস গণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন হযরত বড়পীর আবদুল ক্বাদের জিলানী (রাঃ)। এজন্যই তাঁকে গাউসুল আজম বলা হয়।
[সুত্রঃগাওসুল আজম-মাওঃ নূরুর রহমান]
“ইরগামুলমুরীদিন” নামক গ্রন্থে গাউসের সংগা এভাবে বলা হয়েছেঃ “গাউস এমন কুতুবকে বলা হয়, যাঁর কাছে বৈধ কোন জিনিস প্রার্থনা করা যায় এবং যাঁর উছিলায় ফরিয়াদ কবুল হয়” মূলতঃ অলী-আল্লাহগণ হলেন নবী করিম (ﷺ) এঁর ধর্মের সত্যিকার প্রমাণ। মুজিযার প্রতিচ্ছবিই হচ্ছে কারামত।
👌অলীগণের কারামত মূলতঃ নবীজীর মোজেজা হতে উৎপন্ন ও উৎসারিত। নবীগণ হলেন মাসুম বা বে-গুনাহ এবং অলীগণ হলেন মাহফুজ বা গুনাহ্ হতে সংরক্ষিত।অলী-আল্লাহগণের স্তর বিন্যাস সম্পের্কে মতামত সমুহ:যেমনঃ আল্লামা সৈয়দ জামাআত আলী শাহ- যিনি মোহাদ্দেস আলীপুরী নামে সমধিক পরিচিত।তাঁর মতে অলীদের শ্রেণী বিন্যাস হচ্ছে: আব্রার, আওতাদ, আব্দাল, কুতুব, কুতুবুল আক্তাব, গাউস ও গাউসুল আজম।
👌মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) এর মতে ইমাম হাসান (রাঃ) সাহাবী ও প্রথম গাউসুল আজম,দ্বিতীয় গাউসুল আজম হচ্ছেন হযরত বড়পীর সাহেব (রহঃ) এবং তৃতীয় ও শেষ গাউসুল আজম হবেন হযরত ইমাম মাহ্দী ।
[সুত্রঃ নুজহাতুল খাতির-মোল্লা আলী ক্বারী(রহঃ)]
✌হযরত ইমাম হাসান(রাঃ) যদিও গাউসিয়তে উজমার মর্তবা লাভ করেছিলেন,কিন্তু তাঁর মূল পরিচয় হচ্ছে রাসুলুল্লাহ ﷺ এঁর দৌহিত্র,সাহাবী ও বেহেস্তীগণের সর্দার হিসাবে,যা গাউসুল আজম পদবীরও অনেক উর্দ্ধে।তাই তাঁকে উর্বোচ্চ লকবে অর্থাৎ সাহাবী হিসাবেই আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
[ইনশাআল্লাহ! “গাউসুল আজম” বিষয়ক আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে।]
★২২. বিখ্যাত মোহাদ্দেস হযরত সৈয়দ জামাআত আলী শাহ আলী পুরী (রহঃ) (১৮৩৪-১৯৫১) মানুষের মধ্যে অলীগণের স্তর এভাবে বর্ননা করেছেনঃ (নিচু স্তর থেকে যথাক্রমে ১,২,৩….. উচ্চস্তরে)
১। সাধারণ মানুষের স্তর;
২। ঈমানদারের স্তর;
৩।সাধারণ আউলিয়ায়ে কেরামের স্তর;
৪।শহীদগণের স্তর;
৫।মুত্তাকীগণের স্তর;
৬।মুজতাহিদগণের স্তর;
৭।আবরার অলীগণের স্তর;
৮।আওতাদ শ্রেণীর অলিগণের স্তর- যাদের উসি্লায় দুনিয়ার বন্ধন ঠিক থাকে;
৯।আবদাল শ্রেণীর অলীগণের স্তর- যারা এক মুহু্র্তে বিভিন্নস্থানে আবির্ভূত হতে পারেন;
১০। কুতুব শ্রেণীর অলিদের স্তর- যারা দিকদর্শনের কাজ করেন;
১১। কুতুবুল আকতাব শ্রেণীর অলীগণের স্তর;
১২। গাউস শ্রেণীর অলীগণের স্তর- যারা মানুষকে সাহায্য করেন;
১৩।গাউসুল আ’জমের স্তর। (এখানেই অলীগণের স্তর শেষ)
১৪ নম্বরে তাব্য়ে তাবেয়ীন এবং ১৯ নম্বরে সিদ্দিক সাহাবীর স্তর।২০নম্বর থেকে নবীগণের স্তর শুরু এবং ২৭ নম্বরে গিয়ে নবী মোস্তফা (ﷺ) এঁর স্তর সমাপ্ত হয়েছে বলে মোহাদ্দেস আলীপুরী (রহঃ) উল্লেখ করেছেন।পাঠকগণের পিপাসা নিবারনের জন্য শুধু স্তরগুলো নীচে উল্লেখ করছি। ব্যখ্যা করা এখানে সম্ভব নয়।
১৪।তাব্য়ে তাবেয়ীন;
১৫।তাবেয়ীন;
১৬।সাহাবী;
১৭।আনসার;
১৮।মুহাজির;
১৯।সিদ্দীক; হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ);
২০। নবীগণের স্তর (আঃ);
২১। রাসুলগণের স্তর (আঃ);
২২। উলুল আজম বা বিশিষ্ট পয়গাম্বরগণের স্তর (৭জন);
২৩। খলিলুল্লাহ;(হযরত ইবরাহীম (আঃ))
২৪। খাতামুন্নাবিয়ীন (ﷺ)-নবী করিম (ﷺ)
২৫।রাহ্মাতুল্লিল আলামীন (ﷺ)-নবী করিম (ﷺ)
২৬।হাবিবুল্লাহ (ﷺ)- নবী করিম (ﷺ)
২৭।মোহাম্মদ মোস্তফা (ﷺ)-নবী করিম (ﷺ)
এরপরে আল্লাহর শান আরম্ভ- শানে উলুহিয়াত।
[তথ্য সূত্র- অধ্যক্ষ হাফেয এম এ জলিল (রহঃ)]
👏👏👏👏👏👏👏👏👏👏👏👏👏
★হযরত মালিক বিন আনাস (রহঃ) বর্ণনা করেন যে,“হযরত রাসূলে করীম ﷺ ফরমায়েছেন যে,আমাদের জন্য ৪০ জন ওলী আছেন।এঁদের মধ্যে ১২ জন সিরিয়ায় এবং ১৮ জন ইরাকে রয়েছেন”।
★ইবনে আসাকির (রহঃ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে মারফু হাদীসটি বর্ণনা করেন। হাদীসের মর্ম মতে,” নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’লার ৩০০ জন ওলি আল্লাহ রয়েছেন যাদের ক্বলব হযরত আদম (আঃ)-এর ক্বলবের ন্যায়, ৪০ জন মুসা (আঃ)-এর ক্বলবের ন্যায়,৭ জন ওলী ঈসা (আঃ)-এর ক্বলবের ন্যায়, ৫ জন ওলী জিব্রাইল (আঃ)-এর ক্বলবের ন্যায়,৩ জন ওলী মিকাইল (আঃ)-এর ক্বলবের ন্যায় এবং ১ জন ওলী ইস্রাফীল (আঃ)-এর ক্বলবের ন্যায় সৃষ্টি করেছেন।
**যখন তাদের মধ্যে একজন পরলোক গমন করেন, তখন তাদের তিনজনের দলের একজন তাঁর স্থানে,পাঁচ জনের দলের একজন তিন জনের দলে, সাত জনের দলের একজন পাঁচ জনের দলে,চল্লিশ জনের দলের একজন সাতজনের দলে এবং তিনশত জনের দলের একজন চল্লিশ জনের দলে এবং কোন একজন সৎকর্ম পরায়ন মুসলমানকে সেই তিনশত দলের মনোনয়ন দান করে তাঁদের সংখ্যা পরিপূর্ণ রাখা হয়”।
তাঁদের ওছিলায় রাসূলে করীম ﷺ-এঁর উম্মতদেরকে আল্লাহ তা’য়ালা বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করেন।
★★ ইমাম হাকিম তিরমিজি বর্ণনা করেছেন যে,হযরত রাসূলে করিম ﷺ মানুষের মধ্যে ৪০ জন সিদ্দিক রেখে যান যাঁরা এ পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখেন।
এদের একজনের মৃত্যু হলে আর একজন তাঁর জায়গায় আসেন।এঁদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আল্লাহতালা মোহর দিয়ে একজন ওলীকে পাঠিয়ে দেন। কিতাবে খতম-আল আউলিয়া
[হাকিম তিরমিজি, ৮৯৮ খৃঃ]
[কাসফ আল মাহজুব : আল-হুজবেরী, ১০৬৩ খৃঃ]
★★জুন্নুন মিশরী (রাঃ)-এর মতে, পৃথিবীতে ৩০০ জন ওলী আছেন। এঁদের মধ্যে একজন হচ্ছেন গাউছ বা মূল খুঁটি। তাঁকে একটি বৃত্তের কেন্দ্র বিন্দুর সঙ্গে তুলনা করা যায়। তিনিই আকর্ষণ ও বিকর্ষণের কেন্দ্র।
★★ হযরত মুহীউদ্দিন ইবনুল আরবী (রঃ) বলেন,“হযরত রাসূলে করীম ﷺ-এঁর প্রতিনিধি ছাড়া এ পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকতে পারে না। প্রতিনিধিদের মধ্যে একজন থাকেন যাঁকে কুতুব বা খুঁটি বলা যায়।
কোন এক যুগে এবং কোন এক নির্দিষ্ট স্থানে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর মধ্যে আধ্যাত্মিক গুণাবলীর পরিপূর্ণতা থাকে এবং তাঁকে সাধারণত ছাহেবে জমান বলা হয়।”
★★ হযরত মুহীউদ্দিন আরবী (রঃ)-এর মতে, “গাউছ হলেন বিশ্বব্রহ্মান্ডের প্রাণকেন্দ্র।তাঁর নিকট থেকে চতুর্দিকে আলো বিচ্ছুরিত হয়ে সমস্ত জীবের প্রাণে প্রবেশ করে।
গাউছকে দু’জন ইমাম প্রতিনিয়ত সাহায্য করেন। গাউছের পরে হলেন চারজন আউতাদ বা স্তম্ভ। আউতাদের অধীনে আছেন সাতজন আবদাল।এঁদের কাজ হলো আবহাওয়া নিয়ন্ত্রন করা। এঁদের পরে রয়েছেন বারজন নুকাবা বা মনোনত পরহেজগার ব্যক্তি।
এসকল নুকাবাগণ মানুষের অন্তর্নিহিত চিন্তসমূহ সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারেন। এদের পরে আরও আটজন নুকাপ আছেন যাঁদের মধ্যে মহান আল্লাহতালা আট রকমের গুণ দিয়েছেন।
সবার শেষে আছেন হুয়ারী বা শিষ্যগণ এবং তাঁদের পশ্চাতে রয়েছেন আরও ৪০ জন লোক”। হযরত মুহীউদ্দিন ইবনুল আরবী (রঃ)-এর মতে,“পয়গম্বারদের মধ্যে যেমন শেষ পয়গাম্বর আছেন, ওলীদের মধ্যেও তেমনি শেষ ওলী রয়েছেন যার কাছে সীলমোহর রয়েছে”।
তাঁর মতে “দুটি সীল মোহর রয়েছে- একটি হযরত ঈসা (আঃ)-এর সঙ্গে এবং অপরটি সর্বশ্রেষ্ঠ ওলীর সঙ্গে”।
★★ প্রখ্যাত সুফী আশ শাধিলী বলেন, “প্রত্যেক পীর হলে নিজ নিজ ত্বরিকার কুতুব, খুঁটি বা গাউছ হলেন একজন”।
[Alnafakhir al-Aliya Fi-Alma-Atnir-Osh-Shadhiliya by Ahmad-Ibu-Ayas]
★★পল বি, ফেন্টনের মতে, “বহু সুফী সাধক তাঁদের পীরকে গাউছুল আযম বা মূল খুঁটি বলে দাবী করেছেন।
যেহেতু অনেক সময় গাউছুল আযম দৃশ্যমান নহেন। এ অবস্থায় একটি সময়গত মূল খুঁটি (কুতুবুজজ্বমান) ধারণার সৃষ্টি হয়েছে”।
[Journal of the Muhiddin-Ibu-Arabi Society, Vol.X,1991, Oxford University Press Ltd.]
হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্নিত।তিনি বলেন,আল্লাহ তায়ালা যখন হযরত মূছা (আঃ) ও হযরত হারুন (আঃ) কে ফেরাউনের নিকট পাঠায়, তখন আল্লাহ তায়ালা তাদেরঁকে বলেন:
“ফেরাউনের দুনিয়ার সম্মান ও শান শওকত যেন তোঁমাদেরকে অবাক না করে, খেয়াল রাখ এইসব জিনিষের প্রতি তোঁমাদের দৃষ্টি যাতে না যায়, এইসব কিছু দুনিয়াতে সুখ ও আরাম আয়েশের অলংকার মাত্র, আঁমি (আল্লাহ) যদি তোঁমাদেরকে দুনিয়ার আরাম আয়েশ, সুখ- শান্তি , ও প্রাচুয্যের বালা খানায় রাখতে ইচ্ছা পোষন করতাম।
*তবে ফেরাউন তোঁমাদের বালা খানার সৌন্দয্য দেখে নির্বাক হয়ে যেত, কিন্তু আঁমি তোঁমাদের দুজনকে ইহা থেকে বাচিয়েঁ রেখেছি। কেননা আঁমি আঁমার বন্ধুদের সাথে এই রকমই করি, আগেও আঁমার ওলিদের বা বন্ধুদের জন্য আঁমি এই রকম (তোঁমরা যে অবস্থায়)অবস্থা পছন্দ করেছি।
*আঁমি (আল্লাহ) তাদেরকে (ওলিদের) দুনিয়ার আরাম আয়েশ, সুখ-শান্তি , ও প্রাচুয্যের বালা খানা থেকে এমনভাবে দূরে রেখেছি রাখাল তার ছাগল গুলোকে বিপদজনক শস্য মাঠ থেকে দূরে রাখে, দয়াময় রাখাল তার উঠ গুলোকে নিরাপদে রাখে,আঁমার ওলীদের সাথে আঁমার এই বিনিময় এই কারনে যে আঁমার কাছে তাদের কোন গুরুত্ব নেই তা নয়।
- বরং পরকালে তারা যেন আঁমার কাছ থেকে পরিপূন সম্মান ও অসীম নেয়ামত অর্জন করে নেয়, দুনিয়ার এই অবস্থা, মর্যাদা ও প্রাচুর্য পরকালের তুলনায় কিছু না।দুনিয়াতে মোরাকাবা ও মোশাহেদা বা আঁমাকে (আল্লাহকে) পাওয়ার ধ্যানই হল আঁমার ওলিদের জন্য প্রাচুর্য্য,তাদের পোশাক বা চেনার চিহ্ন হচ্ছে তারা শান্তিকামি ও মাহবুবের ধ্যানে মগ্ন। তাদের চেহেরার উপর আল্লাহর ইবাদতে মশগুলের কারনে সিজদার চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়, নিঃসন্দেহে তারাই হচ্ছে আঁমার সত্যিকারের বন্ধু।
**(হে মুমিন গন!) যখন তোমরা তাদের সাক্ষাত পাবে , তাদের প্রতি সর্বোচ্চ তাজিমের (সম্মানের) সাথে সাক্ষাত কর,তোমার জিব্বাহ ও অন্তরকে তাদের ক্ষেত্রে সাবধান রাখ এবং জেনে রাখ (হে মানব সম্প্রদায়) যে কেও আঁমার ওলিকে ঘৃনা করল অথবা আঁমার ওলির সম্মানকে হালকা মনে করল সে যেন আমার সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করল !!
** সে যুদ্ধের জন্য আঁমার সামনে এগিয়ে আসল, আঁমি (আল্লাহ) আঁমার বন্ধুদের সাহায্যের ক্ষেত্রে খুব দ্রুতগামি !
** যে ব্যক্তি আঁমাকে যুদ্ধের জন্য আহবান করল, সে কি মনে করে
সে আঁমার সামনে যুদ্ধের জন্যে দাডাঁতে পারবে ?
** যে ব্যক্তি আঁমাকে যুদ্ধের জন্য আহবান করল সে কি মনে করে সে আঁমাকে দুশমনির খাতিরে অক্ষম করে দেবে ?
** যে ব্যক্তি আঁমাকে যুদ্ধের জন্য আহবান করল সেকি মনে করে
সে আঁমার কাছ থেকে পালিয়ে যাবে ?
** যে ব্যক্তি আঁমাকে যুদ্ধের জন্য আহবান করল সেকি মনে করে
সে আঁমাকে পরাজিত করবে? কক্ষনো নয়।
**আমি আঁমার বন্ধুদেরকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতে পরিপুর্ন সফলতা দান কারি, তাদেরকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে আঁমি নিঁজেই সাহায্যকারী।
দলিল
From : হাফেজ আবু নাঈম আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইসফাহানী:
Book :“হিলয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবকাতুল আছফিয়াহ”
Volume : ১খন্ড, পৃষ্টা নং- ১১-১২।
★২৩. ওলী-আউলিয়াগনের শান বর্ননা করতে গিয়ে মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন “ওলী গন একই মুহর্তে কয়েক জায়গায় বিচরন করতে পারেন।একই সময়ে তারা একাধিক শরীরের অধিকারী হতে পারেন।”
[মেরকাত,৪র্থ খণ্ড,হাদীস নং ১৬৩২]
★২৪. যখন তোমরা কোন বিষয়ে বিপদগ্রস্থ হও,তখন তোমরা আউলিয়াদের সাহায্য প্রার্থী হবে
[ঈমাম নববীকৃত হাদীসুল আরবাঈন ২৮ নং হাদিস]
★আর ও দেখতে পারেন “ঈমাম সবুকী প্রণীত শিফাউস সিকাম ও মাওলানা দাজউইয়াদী কৃত আল বাসাইর লি মুনকারিত তাওয়াসসূলী বি আহলিল মাকাবীর দ্রষ্টব্য।”
একদা এক ব্যক্তি (সাহাবী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কেয়ামত কবে হবে? নবীজী প্রশ্ন করলেন: কেয়ামতের জন্যে কী প্রস্তুতি নিয়েছ?
*সাহাবী বলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি, নবীজী বললেন: তুমি যাকে ভালোবাস, তার সাথেই থাকবে! হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এঁর কথায় আমরা এতটা আনন্দিত হয়েছি যে, ইসলাম গ্রহণের পর অন্য কোন কারণে আর এতটা আনন্দিত হইনি।
*হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি আল্লাহকে ভালোবাসি, ভালোবাসি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ও হযরত আবু বকর এবং হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকেও। আমার আমল যদিও তাঁদের সমতূল্য নয় তবুও আমি আশাবাদী, আমি পরকালে তাঁদের সঙ্গেই থাকবো!
[বুখারী, হা-৭১৫৩,৫৮১৯ ও মুসলিম, হা- ৬৮৭৮, ২৬৩৯]
✌সুতরাং অলি আল্লাহর দরবার হল ক্ষমা পাওয়ার জায়গা তথা জান্নাতী হতে সাহায্য করে।যেমন: কোন ডাক্তার রোগীকে মৃত্যু থেকে বাঁচায় না বরং রোগীকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।ঠিক তদ্রুপ কোন ওলীগন কাউকে জান্নাত দেয় না বরং জান্নাতী হতে সাহায্য করেন।আর এটা ও প্রমান করে কেন ওলী-আউলিয়াগনকে ভালোবাসতে হবে।
অলী গাউস কুতুব আবদালদের ওসিলায় যমীনে আল্লাহর রহমত ও বরকত নাযিল হয়,বিপদাপদ দুঃখ সংকটে আল্লাহর বান্দাগণ তাঁদের ওসিলায় পরিত্রাণ লাভ করে থাকে। ইমাম তাবরানী উতবা বিন গাযওয়ান থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
اذا ضل حدكم شيئا او اراد عوثا وهو بارض ليس بها انيس فليقل يا عباد الله اغيثونى يا عباد الله اغيثونى فان لله تعالى عبادا لايراهم-
যখন তোমাদের কারো কোন জিনিস হারিয়ে যায় অথবা কেউ রাস্তা ভুলে যায় এবং এরূপ জায়গায় অবস্থান করে যেখানে কোন সহায়তাকারী নেই তখন তিনি এভাবে ডাকবেন- হে আল্লাহর বান্দাগণ আমাকে সাহায্য করুন, হে আল্লাহর বান্দাগণ আমাকে সাহায্য করুন। কারণ আল্লাহর কিছু বান্দা আছেন তারা তাঁদেরকে দেখে না।
[সূত্র: তাকমীলুল ঈমান কৃত: শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ:)]
